Breaking News
Home / HEALTH / নিজেকে চার্জ করে নিন ঘুম দিয়ে

নিজেকে চার্জ করে নিন ঘুম দিয়ে

ঘুম পাচ্ছে? এই মুহূর্তে? মোবাইল ঘাঁটতে ঘাঁটতে ভাবছেন কি একটু ঝিমিয়ে নেবেন? নিন, ক্ষতি নেই বরং লাভ। আজ বিশ্ব ঘুম দিবস। জানেন তো? হঠাৎ কেন ঘুম নিয়ে আলোচনা, ভাবছেন কি? এই যে ভাবছেন, এই ভাবনার শক্তিও তো দিন দিন কমে যেতে পারে কম ঘুমোলে। তাই রোজ নিয়ম করে ছ’ থেকে আট ঘণ্টা ঘুমোনো অভ্যাস করুন।

২০০৮ সাল থেকে ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অফ স্লিপ মেডিসিন’ বিশ্ব ঘুম দিবস পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতি বছর মার্চ মাসে দ্বিতীয় সপ্তাহের শুক্রবারে দিনটি পালন করা হয়।
v
বিশ্ব ঘুম দিবসের মাধ্যমে প্রতি বছর ‘ওয়ার্ল্ড স্লিপ সোসাইটি’ ঘুমের প্রয়োজনীয়তা এবং সমাজে এর প্রভাবের ব্যপারে জনসচেনতা সৃষ্টি করে।
ঘুম বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দীপঙ্কর দত্ত বলছেন, ‘আজকাল আমরা ঘুমের ক্ষেত্রে যেন ‘ ব্যাংক্রাপ্ট’ হয়ে যাচ্ছি। পুরো বিশ্বের পূর্ণবয়স্ক মানুষদের দুই তৃতীয়াংশ মানুষ সঠিক ভাবে ঘুমোন না। ‘World health organization’ তাই এই ‘sleep loss’ এর সমস্যাকে এখন ‘এপিডেমিক ‘ঘোষণাও করেছে।

আসলে খাদ্য বাসস্থানের মতো ঘুমও কিন্তু বেঁচে থাকার অপরিহার্য একটি শর্ত। খাবার কিনতে পয়সা লাগে, অথচ ঘুম কিনতে হয় না, তবু ঘুমোই না আমরা। আজকাল ৭৮-৭৯ রকমের ‘স্লিপ ডিসঅর্ডার’ আছে। রাতের ঘুম ঠিক না হলে পরের দিন সকালে সারাদিন তার প্রভাব থাকছে। আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, বাচ্চারা স্মৃতি হারায়, মেধা কমে যায়। বড়রা হৃৎপিণ্ডের এবং স্নায়ুর সমস্যায় পড়েন। ‘ওবেসিটি’, ‘ডায়াবেটিস’, ‘অ্যালঝাইমার’ এর সম্ভাবনা বাড়ে। ‘WHO’ বলছে ‘chronic sleep deprivation’, ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে কম ঘুমের জন্য।

আমাদের ‘স্লিপ হাইজিন’ মেনে চলা উচিত। আজকাল আমরা বহু রাত পর্যন্ত মোবাইল ঘাঁটি, আবার ভোরে আল্যার্ম দিয়ে উঠি।অথচ প্রয়োজন কিন্তু উল্টোটা করার। প্রয়োজনে অ্যালার্ম দিয়ে ঘুমোতে যান। মানে সঠিক ভাবে ঘুমোন। ঘুমোতে যাওয়ার এক দু’‌ ঘণ্টা আগে থেকে মোবাইল, ল্যাপটপ থেকে দূরে থাকুন। মেলাটোনিন হরমোন, যা আমাদের ঘুমোতে সাহায্য করে, সেটা বিকেলের রোদ গায়ে লাগিয়ে বাড়িয়ে নিন। ঘুম ছাড়া বিছানায় সময় কাটানোর দরকার নেই।

ঘুমের সময় বিছানা আপনাকে আপন করে নেবে। এটুকুই সম্পর্ক থাক। প্রয়োজনে ঘুমোতে যাওয়ার আগে একটু স্নান করে নিন। চা কফি বাদ দিন ঘুমনোর আগে। আর সুযোগ পেলে ভাতঘুমও দিন পনের কুড়ি মিনিটের জন্য। ‘

মনোবিদ অনুত্তমা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ‘মোবাইলের চার্জ যেমন করে ফুরিয়ে যায়, চার্জ দিতে হয়, ঠিক সেরকম ভাবেই আমাদের মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্রকে নিজেদের মতো করে চার্জ করে নিতে হবে। আমাদের সকলের নিজস্ব শারীরিক ছন্দ আছে, সেই মতো খাপে খাপে ঘুমোনো দরকার। এই ‘pandemic situation’ এ অনেকেরই ঘুমের ধরনে বদল এসেছে। কেউ কেউ রাতে জাগেন বেশি, দিনে ঘুমোন বেশি। কেউ আবার উল্টোটা, কাজেই শারীরিক প্রয়োজনেই আমাদের সুবিধে মতো ঘুমিয়ে নিতে হবে। জেগে থাকার সময়টুকু সঠিকভাবে কাজে লাগাতেই দৈনন্দিন ঘুমটুকু সঠিকভাবে সেরে নিতে হবে।’

সমাজকর্মী রত্নাবলী রায়ের অভিমত, নিজে ঘুমোতে ভীষণ ভালোবাসেন। কাজেই ঘুমের প্রয়োজনীয়তা সবসময় তাঁর কাছে আলাদা। মানসিক রোগীদের নিয়ে কাজ করেন তিনি গোটা রাজ্য জুড়ে। তিনি বলেছেন নিয়ম মেনে সকলকেই খাওয়া ঘুমের অভ্যাস করান তাঁরা। তিনি বলছেন অনেকেই মনে করেন যাঁরা বলেন বেশি ঘুমোন মানেই অলস মানুষ, তাঁরা হয়তো ঠিক বলেন না।

হতেই পারে শরীরের শক্তিটুকু তাঁরা জুটিয়ে নেন ঘুমের মাধ্যমেই। আর কেউ নার্ভের ওষুধ খেলেই সে অতিরিক্ত ঘুমে ঢলে পড়েন তা কিন্তু না। আসলে জীবন যুদ্ধে লড়াই করতে করতে কোথাও একটা আমাদের সকলকেই কখনও না কখনও একটু আশ্রয়হীনতা গ্রাস করে, সে সময়ে ঘুমের চেয়ে আরাম কিন্তু আর কোনও কিছুতে পাওয়া যায় না।’
অতএব বুঝলেন তো, বন্ধু আত্মীয় স্বজন যে যাই বলুক, আপনাকে সুস্থ থাকতে , জীবনের পিচে বেশিদিন টিকে থাকতে নিজের ঘুমটুকু নিজেকেই ঘুমিয়ে নিতে হবে ।

Check Also

পাই’লস সম’স্যার চির’স্থা’য়ী সমা’ধান লা’উ শা’ক!

পাইলস স’মস্যার চির’স্থা’য়ী – শীতের একটি সু’স্বাদু সব’জি হচ্ছে লা’উ শাক। এটি একটি ফ’লিক এসিড ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *