Breaking News
Home / WORLD / সাবধান, বিশ্বের এই ৫টি ভয়ানক বিমান বন্দরে কিন্তু ভুলেও যাবেন না!

সাবধান, বিশ্বের এই ৫টি ভয়ানক বিমান বন্দরে কিন্তু ভুলেও যাবেন না!

বিমানবন্দর। আজকের প্রজন্মের প্রিয় জায়গা। কম সময়ে যাতায়াতের সুবিধা তো আছেই আজকের আধুনিক ঝাঁ চকচকে বিমানবন্দরে সময় কাটানোটাও একটা বিনোদন। ঝলমলে পরিবেশ, সুস্বাদু খাবার, শপিং করার জায়গা আর তার সঙ্গে ফটাফট সেল্ফি তোলা। ক্লান্ত যাত্রী হাতে সময় থাকলে একটু ঘুমিয়েও নিতে পারেন এখানে। আপাত দৃষ্টিতে আধুনিক জীবনযাপনের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।

কিছু সেলিব্রিটি তো শুধু বিমান বন্দরে যাতায়াত করবেন বলে ডিজাইনার পোশাক কেনেন। সেই আঁচ আম আদমির উপরেও পড়েছে। বিমানবন্দরে বিমানে চড়ে পাশের রাজ্যে যেতে গেলেও টিপটপ ড্রেস, মেকআপ, অ্যাক্সেসরিজ কিংবা লাগেজ ব্যাগ খুব দরকার। বিমানে ওঠার পর তো কথাই নেই। সুন্দরী বিমান সেবিকা আপনাকে সাহায্য করার জন্য সদা প্রস্তুত। বিমান ছাড়ার আগে ভেরি হ্যান্ডসাম পাইলটের নির্দেশ (যদিও তার বেশিরভাগই বোধগম্য হয় না)। সবমিলিয়ে বিমান চড়াটা বেশ আমোদের মতোই লাগে। অনেকেই আবার ল্যান্ডিং-এর সময় বেশ মজা পান। উপর থেকে নামার সময় জানালার দিকে চোখ দিলেই বিন্দু গুলো সব বড় আকার নিতে শুরু করে। স্পষ্ট হয়, গাছপালা, মাঠ, বহুতল, রাস্তা সবকিছু। সঙ্গে মনের হালকা উত্তেজনা। এখুনি বিমান নামবে।

যেখানে নামার ভয়
কিন্তু জানেন কি বিশ্বের এমন কিছু বিমানবন্দর রয়েছে যেখানে নামতে গেলে যাত্রীর বুকের পাটা লাগে? সঙ্গে বিমানচালককেও হতে হয় দারুণ অভিজ্ঞ? আজ্ঞে হ্যাঁ, এই সব বিমানবন্দরে আপনি নিশ্চিন্তে নামতে পারবেন না। নামতে গেলেই ভয়ে বুক দুরুদুরু করবে।

হিমালয়ের বুকে লুকলা বন্দর
যাঁরা মাউন্ট এভারেস্টের দিকে যাবার প্রস্তুতি নেন তাঁরাই এই লুকলা বিমানবন্দরে নামেন। হিমালয়ের কোলে এই বিমানবন্দরের পোশাকী নাম তেনজিং-হিলারি এয়ারপোর্ট। নাম শুনেই বুঝতে পারছেন সাদামাটা ব্যাপার এটা নয়। পর্বতের বুকে থাকা এই বন্দরের রানওয়েটি খুব ছোটো। ছোট্টো এই বন্দরে প্রায়ই বিদ্যুত্ চলে যায়। মানে সমস্ত যোগাযোগ এক নিমেষে ভ্যানিশ। আর বিমান ল্যান্ডিং-এর সময় যদি এরকম কিছু ঘটে তাহলে যে কী সর্বনাশ হবে তা আন্দাজও করতে পারবেন না। দারুণ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিমানচালককেই এখানকার বিমান চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়।

সাও পাওলোতে সাবধান
তবে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ানক বিমানবন্দর হল সাও পাওলোর কঙ্গোন্যাস বিমানবন্দরটি। এখানকার রানওয়েটি এতটাই ছোটো যে বিমানচালক কীভাবে বিমান ল্যান্ড করেন তা শুধু তিনি বুঝতে পারেন। তার উপর বিমানবন্দরটি জনবহুল স্থানে অবস্থান করছে। অগণিত বহুতল এবং অতি মসৃন রানওয়ে এখানকার উপরি পাওনা। মানে এদিক থেকে ওদিক হলে সর্বনাশ। এরকম শাঁখের করাতের মতো পরিস্থিতি সামলাতে বিমানচালকের অভিজ্ঞতার মূল্য অপরিসীম। দুঃসাহসী হতে হয় যাত্রীকেও।

গিসবর্নে গোলোযোগ
সর্বনাশের মাথায় বাড়ি পড়ে নিউজিল্যান্ডের গিসবর্নের বিমানবন্দরে গেলে। বিমানবন্দরটির রানওয়ে দিয়ে চলে গেছে একখানি রেললাইন। আজ্ঞে হ্যাঁ, কু ঝিকঝিক রেলের লাইন। তাই এখানে বিমান ল্যান্ড করা দারুণ ঝুঁকির কাজ। সময়ের সামান্য ভুলে ঘটে যেতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা।

পারোতেই পোয়াবারো
বিমানে উঠে আরও অ্যাডভেঞ্চার চান? সোওওওজা ভুটান চলে যান। প্লেনের টিকিটটা পেতেই যা একটু কষ্ট হবে। কারণ এই ভুটানের পারো বিমানবন্দরে বিমান নিয়ে প্রবেশ করার অধিকার নাকি মাত্র ১৭ জন বিমানচালকের রয়েছে। মানে ১৭ জন অতি অভিজ্ঞ পাইলট। কারণ হিমালয়ের বুকে এই বন্দরে নামতে গেলে বেশ কয়েকটি পর্বতশৃঙ্গ বাঁচিয়ে চলতে হবে। বিমানবন্দরে ঝুঁকিটা জানলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যাত্রীর বুকের ধড়ফড়ানি থামবে না। প্রতিবার ল্যান্ডিং-এর সময় পাইলটের অবস্থাও নাকি এরকম হয়ে থাকে।

জিব্রাল্টারে পথের কাঁটা
নিউজিল্যান্ডের গিসবর্ন বিমানবন্দরের মাঝ দিয়ে যেমন রেললাইন চলে গেছে, ঠিক তেমনই দক্ষিণ ইউরোপের জিব্রাল্টার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মাঝ দিয়ে চলে গেছে একখানি রাস্তা। হ্যাঁ, রাস্তা, পথ। যে সে রাস্তা নয়, শহরের প্রধান পথ ওয়েস্টার্ন চার্চিল এভিনিউ। আর এই পথই বিমানবন্দরের পথের কাঁটা। এখানে বিমান কিংবা পথচারীদের যাতায়াতের জন্য অনেকটা রেলওয়ে সিগন্যালের মতো নিয়ম মেনে চলতে হয়। প্লেন আসছে দেখলেই নির্দিষ্ট খাম্বার পিছনে দাঁড়িয়ে পর। আর ভুলেও যদি নিয়ম ভাঙার চেষ্টা করেছো তাহলে সোজা পটলডাঙার টিকিট।

Check Also

মরুভূমিতে ৬ হাজার বছর আগের শিশুর মমি উদ্ধার!

ছয় হাজার বছর আগের একটি শিশুর মমি করা কঙ্কাল উদ্ধার করেছে ইসরাইলি প্রত্নতাত্ত্বিকরা। এ ছাড়া ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *