Breaking News
Home / INSPIRATION / সন্তানের অন্নপ্রাশনে রক্তদান শিবির করে নজির গড়লেন উলুবেড়িয়ার দম্পতি

সন্তানের অন্নপ্রাশনে রক্তদান শিবির করে নজির গড়লেন উলুবেড়িয়ার দম্পতি

অন্নপ্রাশন মানেই শিশুর প্রথম ভাত খাওয়া। আনন্দ, অনুষ্ঠান, খাওয়া দাওয়া এই ছিল বাঙালি ঘরানা। এতদিন এটাই চলে এসেছে বাংলার ঘরে ঘরে। আর এই চিরাচরিত প্রথা থেকে বেরিয়ে নজির গড়লেন উলুবেড়িয়ার গদাইপুরের দম্পতি। নিজেদের সন্তানের অন্নপ্রাশনে রক্তদান শিবির করে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপনের পাশাপাশি সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করার প্রতিজ্ঞাও নিলেন তাঁরা।

বুধবার ছিল অর্পণ ও সুপ্রীতির একমাত্র সন্তান অভ্রদীপের অন্নপ্রাশন। কিন্তু ওই দম্পতি ঠিক করেন অন্নপ্রাশনের দিন সাধারণ মানুষের জন্য রক্তদান শিবির করবেন তারা। নিমন্ত্রিতদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন উপহার নয়, সম্ভব হলে পরিবারের একজন রক্তদান করুন। দম্পতির আবেদনে সামিল হয়েছেন নিমন্ত্রিতরাও।

কিন্তু কীকরে মাথায় এল এমন উদ্যোগ? অর্পণবাবু জানান,‘‌আমার সন্তানের অন্নপ্রাশন নিয়ে ভাবছিলাম। মনে পড়ছিল, লকডাউনের সময় থেকেই রক্তের তীব্র সংকট। ছোট্ট অভ্রদীপের মামা শুভদীপই রক্তদান শিবির করার জন্য প্রথম প্রস্তাব দেন। শুভদীপ বলছিলেন, এমন একটা মানবিক কাজ করলে সারাজীবনের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে ছোট্ট ভাগ্নের অন্নপ্রাশন।’


শুভদীপ সাহু নিজের ভাগ্নের অন্নপ্রাশন উপলক্ষে রক্তদানের কথা বলতে গিয়ে বলেন, ‘‌আমার ভাগ্নের অন্নপ্রাশন রক্তদানের মত একটি মহৎ কাজের মাধ্যমে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি কিছু হতে পারে না। সচেতনতার বোধ তৈরি হোক সমাজে। এটাই চায় আমাদের পরিবার।’‌

অভ্রদীপের অন্নপ্রাশনে মোট ৩৪ জন রক্তদান করেন। প্রচলিত প্রথার আগল ভেঙে উলুবেড়িয়ার প্রত্যন্ত গ্রামের দম্পতি যে ভাবে নিজের সন্তানের অন্নপ্রাশনকে সামাজিক আন্দোলনের অংশ করলেন তা দৃষ্টান্ত। একই ভাবে সামন্ত পরিবারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান রক্ত সংগ্রহকারী চিকিৎসকেরাও। রক্তদাতাদেরও ফেরানো হয়নি খালি হাতে, তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি করে চারাগাছও।

Check Also

চা’করি ছেড়ে আম চাষ করলেন, 22 ধরনের আম চাষ করে বছরে 50 লাখ টাকা আয় করলেন ইনি, কিভাবে জানুন

আপনি যতই পরা শোনা করুন না কেন আপনি ভালো জায়গায় একটি ভালো কাজ পেয়েও হয়তো ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *