Breaking News
Home / NEWS / উত্তরাখণ্ড বিপর্যয়ের কথা আঁচ করতে পেরেছিল মাছেরা!

উত্তরাখণ্ড বিপর্যয়ের কথা আঁচ করতে পেরেছিল মাছেরা!

অনেক বিশেষজ্ঞরাই বলেন পশুপাখি নাকি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আভাস পায় আগে থেকেই। ভূমিকম্পের আগে অনেক সময়ই দেখা গিয়েছে চিল চিৎকার জুড়ে দেয় কুকুর। বন্যার আঁচ পেলে কেঁচো মাটি খুঁড়ে বেরিয়ে আসে। পশুপাশি, কীট-পতঙ্গরা এমন অনেক কিছুই আগে থেকে বুঝতে পারে যা মানুষের নাগালের বাইরে। এমনকী আধুনিক বিজ্ঞানও এর অনুসন্ধান করতে অপারক। উত্তরাখণ্ডের বিপর্যয়ের ক্ষেত্রেও এমনটাই ঘটেছিল বলে মনে করছেন অনেকে। শোনা যাচ্ছে অলকানন্দা নদীর মাছেরা নাকি এই বিপর্যয় সম্পর্কে আগে থেকেই আঁচ করতে পেরেছিল।

উত্তরাখণ্ড বিপর্যয়ের রেশ এখনও কাটেনি। হিমবাহ ভেঙে পড়ার পর উত্তরাখণ্ডের ঋষিগঙ্গা, ধৌলিগঙ্গা, তপবোন এলাকায় যে প্রবল বন্যার সৃষ্টি হয়েছিল তাতে নিখোঁজ হয় বহু মানুষ। এখনও তাদের উদ্ধার কাজ চলছে। কেন্দ্র ও রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর এবং আইটিবিপির জওয়ানরা একসঙ্গে মিলে দিনরাত এক করে চালাচ্ছেন উদ্ধার কাজ। এই পরিস্থিতির মধ্যেই শোনা গেল অলকানন্দা নদীর মাছেরা বিপর্যয় সম্পর্কে আগাম জানত। তাদের মধ্যে অদ্ভূত ব্যবহার লক্ষ্য করা গিয়েছিল তখন।

খবরে প্রকাশ, সাধারণত মাছেরা নদীর মাঝখান দিয়ে সাঁতার কাটে। কিন্তু সেদিন অদ্ভুতভাবে তারা নদীর ধারে চলে এসেছিল। নদীর পাড় বরাবর সাঁতার কাটছিল তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে এটা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত হতে পারে। নদীর ট্রাউট ও পোনা মাছগুলি সেদিন জলের গভীরে কোনওভাবেই যাচ্ছিল না। যতটা সম্ভব তীরের দিকেই থাকছিল তারা। সকালে ৯টা নাগাদ লাসু গ্রামে দেখা যায় মাছের দল উপরের দিকে ভেসে উঠছে। নন্দপ্রয়াগ, লাঙ্গাসু ও করণপ্রয়াগেও একই ঘটনা লক্ষ্য করা গিয়েছিল বিপর্যয়ের দিন। মাছ যখন নদীর তীরে চলে আসছিল স্থানীয়রা তখন তাদের ধরার জন্য হুড়হুড়ি শুরু করে দেয়। কেউই তখন জানত না কী ঘনিয়ে আসছে। কেউ এটাও লক্ষ্য করেনি যে নদীর স্বচ্ছ্ব সবুজ জল ধূসরে পরিণত হয়েছে।

এই সম্পর্কে বলতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জলের তলার মাটির কম্পনই সম্ভবত মাছেদের ইন্দ্রিয়কে সজাগ করে দেয়। তারা বুঝতে পারে বন্যা আসতে চলেছে। তাই তারা উপরের দিকে ভেসে ওঠে। মাছের শরীর এমনভাবে তৈরি যে জলের স্বল্প কম্পনও তারা বুঝতে পারে। ওয়াইল্ডলাইফ ইনস্টিটিউড অফ ইন্ডিয়ার বিজ্ঞানী কে শিবকুমার বলেছেন যে জল একটু চঞ্চল হলেই মাছ তা ধরতে পারে। হতে পারে বন্যার শব্দ তরঙ্গ মাছেরা বুঝতে পেরেছিল। জলের হয়তো কোনও বিদ্যুৎ তরঙ্গ প্রবাহিত হয়েছিল আর সেটাই ধরতে পেরেছিল মাছেরা।

Check Also

রাজ্যজুড়ে ভারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস! আবাহাওয় দফতরের সর্তকতা জারি

রাজ্যজুড়ে ভারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস! আবাহাওয় দফতরের সর্তকতা জারি- উত্তর প্রদেশের উপরে থাকা ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *