Breaking News
Home / LIFESTYLE / হাত দিলেই ঝরছে চুল? সমস্যা মেটাতে মেনে চলুন এই উপায়!

হাত দিলেই ঝরছে চুল? সমস্যা মেটাতে মেনে চলুন এই উপায়!

সমস্যাটা হয় তখনই যখন যে অনুপাতে চুল ঝরে তার থেকে কম চুল গজালে। একজন মানুষের দিনে ১০০ টা পর্যন্ত চুল ঝরে যেতে পারে। তবে নাগাড়ে চুল ঝরতে থাকলে এক জন ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চুল গজানো থেকে ঝরে যাবার মধ্যে তিনটি পর্যায়ে আছে। অ্যানাজেন, ক্যাটাজেন ও টেলোজেন। চুল গজানোর পর বেড়ে ওঠে অ্যানাজেন ফেজে। ক্যাটাজেন অবস্থায় চুল আর বাড়ে না। টেলোজেন দশায় চুল ঝরে যায়। আসলে প্রত্যেক কোষের মত চুলেরও নির্দিষ্ট আয়ু আছে।

প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিদিনই কিছু পুরনো চুল ঝরে যায়, একই সঙ্গে নতুন চুল গজায়। কিন্তু মাঝে মাঝে আঁচড়ালেই রাশি রাশি চুল উঠে আসে, শ্যাম্পু করলেও তাই। অবশ্য এই সমস্যা শুধু আমার আপনাদের একার নয়, পৃথিবীর প্রতি চার জনের এক জন চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যায় ভোগেন। বিভিন্ন কসমেটিক্সের ব্যবহার করে সমস্যা আরও বাড়িয়েও তোলেন। কিছু বড় অসুখের পর হু হু করে চুল পড়ে যায়। চুল ভালো রাখার জন্য কী কী করা দরকার ও কোন কোন অভ্যাস এড়িয়ে চলতে হবে সেদিকে একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।

নারকেল তেলের ব্যবহার

চুল এবং চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, চুল ঝরে যাওয়াটা অনেকটা আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। হেমন্তে চুল বেশি ঝরে আর গ্রীষ্মে চুল পড়াটা কমে যেতে পারে। এছাড়াও ট্রাইকোলজিস্ট (Trichology, Trichologist) অ্যানাবেল কিংসলে জানান, যাঁদের চুল বেশি লম্বা হয়, তাঁদের চুল ঝরার পরিমাণ অন্যান্যদের চেয়ে বেশি হতে পারে। এতে বেশি চিন্তিত হবার কিছু নেই। চুল পড়া বন্ধ বা চুলের যত্ন নিতে অবশ্যই তেল দিতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হল নারকেল তেল। নারকেল তেল চুলকে মসৃণ ও স্বাস্থ্যবান করে। এতে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য আছে, যা যেকোনো ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাসের আক্রমণ থেকে চুলকে রক্ষা করে। তাই সপ্তাহে যে করেই হোক একদিন চুলে তেল দিতে হবে বা শ্যাম্পু করার আগে চুলে তেল ম্যাসাজ করতে হবে।

​ পেঁয়াজের রস এবং মেথি বাটা

চুল ঝরে যাওয়া আসলে একেবারে প্রাকৃতিক একটি প্রক্রিয়া। চুল ঝরে যাবে এবং আবার নতুন চুল গজাবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অনেকেরই মনে হতে পারে চুল খুব বেশি ঝরে যাচ্ছে। চুল ঝরে গিয়ে টাক পড়ে যাওয়ার ভয় কাজ করে তাদের মধ্যে। পেঁয়াজের রস এবং মেথি বাটা চুলে ব্যবহার করলেও ভালো ফল মিলতে পারে। পেঁয়াজ ও মেথির মধ্যে থাকা উপাদানগুলি চুলের ঔজ্জ্বল্য বাড়ায় এবং চুলকে ভিতরে থেকে মজবুত করে। পেঁয়াজ ভাল করে বেটে ১ মগ জলে মিশিয়ে নিন। এ বার পেঁয়াজের রস মেশানো ওই জল মাথায় লাগিয়ে ভাল করে মালিশ করুন। কিছু ক্ষণ পর উষ্ণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এ ভাবে সপ্তাহে অন্তত ২-৩ বার পেঁয়াজের রস মাথার ত্বকে মাখলে খুশকির সমস্যায় দ্রুত উপকার পাবেন।

কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার নয়

কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না। শ্যাম্পুতে বিটরুট নির্যাস, তেঁতুলের বীজ আছে কি না, লক্ষ্য রাখুন। এই উপাদানগুলো চুলের কোনও ক্ষতি না করে কার্যকরভাবে মাথার তালু পরিষ্কার করে। সরাসরি শুকনো চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন না। তেল দিয়ে শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। আসলে দৈনিক কতটা পরিমাণে চুল ঝরাটা স্বাভাবিক আর কতটা চুল ঝরলে আমাদের চিন্তিত হবার কারণ রয়েছে— এ সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই স্পষ্ট কোনও ধারনা নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনিক ৫০ থেকে ১০০টি চুল ঝরে যাওয়াটা স্বাভাবিক। শরীরের যথাযথ যত্ন নিলে চুল আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

কন্ডিশনার ব্যবহার

অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। কন্ডিশনার ব্যবহার করলে চুল কেবল উজ্জ্বলই হয় না। এটি চুলের গোড়াকে মজবুত করে ও চুলকে মসৃণ করে। তবে অবশ্যই চুলের ধরন বুঝে কন্ডিশনার বেছে নিতে হবে। বিটরুট নির্যাস, অ্যাকুয়া, প্রো ভিটামিন বি-৫ সমৃদ্ধ কন্ডিশনার ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যাবে। চুল বেশ রুক্ষ হয়ে গেলে শ্যাম্পু করার পরে তাকে আঁচড়ে এক জায়গায় রাখা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কারণ বেশ কিছু ছোট চুল উড়তে থাকে। চুল ঘষে মোছার পর জট পড়া শুরু হয়। ফলে দেখতে মোটেই ভাল লাগে না। চুল ছিঁড়ে যাওয়ার প্রবণতাও বাড়ে।

ভালো খাদ্যাভ্যাস

অনেকে মনে করেন, গরম জল দিয়ে পরিষ্কার করলে চুল ভালো থাকে। এটি একেবারেই ভুল ধারণা। গরম জল মাথার তালুর গুরুতর ক্ষতি করে, এতে চুল পড়ে ও চুল দুর্বল হয়ে যায়। আপনি কী খাচ্ছেন? খারাপ খাদ্যাভ্যাস চুল পড়ার অন্যতম কারণ। এ জন্য সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার চুল পড়া রোধে সাহায্য করে। ভিটামিন ই যুক্ত খাবার, সামুদ্রিক মাছ ডিম, দুধ চুলের জন্য খুবই উপকারী।

হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার নয়

যদি খুব বেশি চুল পড়তে থাকে তাহলে হেয়ার প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘৃতকুমারী, আমলকী, শিকাকাই, নিমের গুঁড়ো একই পরিমাণে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে চুলে দিতে হবে। সপ্তাহে একবার এটির ব্যবহার চুল পড়া কমাবে। এ ছাড়া ডিম, মেথির গুঁড়ো ও টক দই মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে চুলে দেওয়া যেতে পারে। সপ্তাহে দুদিন এই প্যাক ব্যবহারে চুলের গোড়া মজবুত হয়। অনেকে চুল দ্রুত শুকনো করার জন্য হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করেন। কিন্তু গরম হাওয়া চুলের জন্য ক্ষতিকর।

Check Also

রান্নাঘরে এই ১০ জিনিস থাকলে এখনই ফেলে দিন

রান্নাঘর, যে কোনও বাড়ির অন্যতম গু’রুত্ব পূর্ণ একটি স্থান। কারণ রান্নাঘর যেমন আমাদের খাবারের যোগান ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *