Breaking News
Home / INSPIRATION / আইটি সংস্থার চাকরি ছেড়ে হোম মেড খাবার, ১১ রেস্তোরাঁর মালিক জয়ন্তী

আইটি সংস্থার চাকরি ছেড়ে হোম মেড খাবার, ১১ রেস্তোরাঁর মালিক জয়ন্তী

পড়াশুনো শিখে নামকরা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করার স্বপ্ন আমাদের সবারই আছে। কারণ, আইটি সেক্টরে কাজ করলে শুধুই প্রচুর বেতন পাওয়া যায় না, সেই সঙ্গে পাওয়া যায় নাম-যশ – খ্যাতি প্রভাব প্রতিপত্তি সব কিছুই।

তবে এই বিলাসবহুল জীবনের হাতছানি উপেক্ষা করে আপনি যদি হোম মেড খাবারের রেস্টুরেন্ট খোলেন তাহলে ব্যাপারটা কেমন হবে? কী ভাবছেন লোকে আপনাকে পাগল ছাড়া আর কিছু বলবে না? তবে এমন পাগালামো কাজ করে ভারতে রেস্তোরাঁর ব্যবসায় সাফল্যের শিখরে আছেন মহারাষ্ট্রের জয়ন্তুী কাঁঠালে।

ভারত সহ অস্ট্রেলিয়া মিলিয়ে গোটা বিশ্বে ১১ টি রেস্টুরেন্টের ব্যবসা রয়েছে তাঁর। এমনকি এই সমস্ত রেস্টুরেন্টে বিদেশি নয়, বরং বিদেশের মাটিতে বসে নিজের দেশের রান্নার স্বাদ নেওয়া যায়। সম্পূর্ন দেশীয় পদ্ধতিতে নিরামিষ খাবার তৈরিতে বহুল জনপ্রিয়তা রয়েছে মহারাষ্ট্রের জয়ন্তীর।

স্বামীর ঘর সামলে এবং সন্তানকে মানুষ করেও এতকিছুর পর আজ তিনি একজন ১০০ শতাংশ সফল ব্যবসায়ী তথা রাঁধুনী। তাঁর হাতের রান্নাা জিভে জল এনে দেয় খাদ্যপ্রেমী মানুষদের। জয়ন্তী কাঁঠালে পড়াশোনা শেষ করে চাকরী জীবন শুরু করেন একটি আইটি কোম্পানি থেকে। কর্পোরেট সেক্টরের চাকরির চাকচিক্য থাকলেও তিনি ভীষণ ভাবে মিস করতেন তাঁর বাড়ির রান্না।

এমনকি রাস্তার খোলামেলা খাবার খুব একটা পছন্দ করতেন না তিনি। আর শেষমেশ একদিন তাঁর মনের এই সুপ্ত বাসনার কথাটি জানালেন তাঁরই অফিসের এক সহকর্মীকে। সালটা তখন ২০০৬। আর সেই থেকেই কয়েকজন বন্ধুর সহযোগিতায় আজও রমরমিয়ে চলছে জয়ন্তীর রান্নাাাাঘর ‘পূর্ণাব্রহ্ম’। জয়ন্তীর এই রান্নাঘরে পাওয়া যায় নানা স্বাদের আঞ্চলিক খাবার। যেগুলি সাধারণত অঞ্চল ভেদে পাল্টে যায়।

তবে এখানে মেলে মারাঠি জনপ্রিয় খাবার গুলি যেমন ধরুন, স্পাইসি লেসড-মিশল-পাভ, ডাল কা দুলহা, সাবুদানার ওদা, শ্রীকান্ধ পুরী, পুরান পুলি প্রভৃতি। শুধু তাই নয়, খাবারের দামও রয়েছে ক্রেতার সাধ্যের মধ্যেই। জয়ন্তীর এই নতুন রেস্টুরেন্টে হোম মেড খাবারের স্বাদ খুব তাড়াতাড়ি জয় করে নিয়েছিল সবার মন। মহারাষ্ট্র শহরে ছোটো বড়ো সব হোটেলের পক্ষ থেকে খাবারের গুনমানের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। আর স্বল্প মূল্যের এই খাবারের আয়োজনে জয়ন্তীকে সাহায্য করেছিলো তাঁর ঠাকুরমা এবং একমাত্র ছেলে।

চাকরির প্রথম দু বছর দিনে ৮ ঘন্টা অফিসে কাটিয়েও বাড়ি ফিরে নতুন নতুন পদের বাহারি রান্নায় মজে উঠতেন তিনি। এমনকি সারাদিন সেভাবে বিশ্রামও পেতেন না তিনি। রাত সাড়ে ৩ টের সময় ঘুমতো গিয়ে সকালে ৫ টায় ঘুম থেকে উঠে ঘরের সমস্ত কাজকর্ম সেরে আবার অফিস ছুটতেন। যদিও যেভাবে চারিদিকে তাঁর খাবারের প্রশংসার বন্যা বয়ে গিয়েছিল, তাতে করে জয়ন্তীকে আর বেশি দিন কাজ করতে হয়নি আইটি সেক্টরে। বিলাসবহুল চাকরী ছেড়ে এরপর পুরোপুরি ভাবে লেগে পড়েন হোম মেড খাবারকে সকলের কাছে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে।

আর এই কাজে কয়েক জন বন্ধুর সহযোগীতায় বেঙ্গালুরুতে তিনি প্রথম এই রেস্তোরাঁ খোলেন। কয়েকজন সহযোগী নিয়ে পুরোদমে লেগে পড়েন রান্নার কাজে। এভাবে এক বছরের কিছু সময় পরে এই রেস্তোরাঁ থেকেই লক্ষাধিক টাকার মুনাফা লাভ করেন জয়ন্তী। এরপর আর কখনও পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। বর্তমানে জয়ন্তী গোটা দেশ সহ আন্তর্জাতিক বাজারে হোম মেড খাবারে ৫,০০০ আউটলেট খোলার চেষ্টায় রয়েছেন। আর তা খুব শীঘ্রই হয়ে যাবে বলে আশাবাদী তিনিও।

আর এখান থেকেই বোঝা যায় যে, ভাগ্য সবসময় সাহসীদের পক্ষেই থাকে। সঠিক পরিশ্রম এবং একটু মনের জোর থাকলে কোনও বাঁধাই যে বাঁধা নয়, তা প্রমাণ করে দিয়েছেন মহারাষ্ট্রের এই নারী। তাঁর অসমসাহসীকতায় বিশ্ববাজারে খাবার বিক্রি করে কোটি কোটি মুনাফা অর্জন করছেন তিনি। ফলে ভারত নয়, গোটা বিশ্বেই সাফল্যের শিখরে থাকার সেরা নাম হতে পারে জয়ন্তী কাঁঠালে।

Check Also

বাদাম বেচে সংসার চালাত, মেধাবী সেই মেয়েই পাড়ি দিচ্ছে নাসায়!

বাদাম বেচে, ছাত্র পড়িয়ে সংসার চালাত, মেধাবী সেই মেয়েই পাড়ি দিচ্ছে নাসায়! বাবা থেকেও নেই। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *