Breaking News
Home / WORLD / এশিয়ার বৃহত্তম ভাইরাস ব্যাঙ্ক চিনের কাছে কত ভাইরাস আছে জানেন?

এশিয়ার বৃহত্তম ভাইরাস ব্যাঙ্ক চিনের কাছে কত ভাইরাস আছে জানেন?

করোনা ভাইরাসের সৃষ্টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে দানা বাঁধছে নানা বিতর্ক। চীন সরকারের করোনা ভাইরাস নিয়ে পরস্পর বিরোধী সেই বক্তব্যে বেড়েছে আরও সন্দেহ। কীভাবে এই মারত্মক করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি হল তা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। এরই মধ্যেই উহানের একটি ল্যাবরেটরির নাম বারবার উঠে আসছে আন্তর্জাতিক মহলে।

আমেরিকার দাবি, ওই ল্যাবরেটরি থেকেই ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাস। উহানের মাছের বাজারের সঙ্গে ভাইরাসের কোনও সম্পর্ক নেই বলেই মনে করছে অনেকেই। আমেরিকা এই বিষয়ে রীতিমত তদন্ত শুরু করেছে। মার্কিন সচিব মাইক পম্পেও জানিয়েছেন, কীভাবে গোটা বিশ্বে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ল তার নিখুঁত তদন্ত করবে আমেরিকা।

শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়, ব্রিটেনও উহানের ভাইরোলজি ল্যাবরেটারি নিয়ে সন্দিগ্ধ। একাধিক সন্দেহজনক বার্তা উহানের অন্যতম ভাইরাস ব্যাঙ্ক থেকে উঠে এসেছে। আর এই বিষয়েই ব্রিটেনের গোয়েন্দারা সন্দেহ প্রকাশ করছেন। ব্রিটেনের একদল গোয়েন্দাদের মতে , উহানের ভাইরোলজি ল্যাবে বাদুড়ের উপর করোনা ভাইরাসের টেস্ট করছিলেন বিজ্ঞানীরা। আর সেটিই ‘লিক’ করে বাইরে চলে আসে। যা আজ বিশ্বে অতিমারীর রূপ নিয়েছে। যার কারণে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২০ লাখ মানুষের।

চিনের ভাইরাস কালচার কালেকশনের কেন্দ্র এই গবেষণাগার। বলা যেতে পারে এটাই্ এশিয়ার বৃহত্তম ভাইরাস ব্যাংক। যেখানে ১৫০০ ধরনের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা-নিরিক্ষা চলছে। এবোলার মত ভাইরাস নিয়েও গবেষণা করে এরা। যেসব ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে, সেরকম ভাইরাস রয়েছে এই গবেষণাগারে।

৪২ মিলিয়ন ডলারে তৈরি করা হয় এই ল্যাবরেটরি। ২০১৫ সালে ল্যাব তৈরির কাজ শেষ হয়। ২০১৮ থেকে এখানে গবেষণার কাজ শুরু হয়। এই গবেষণাগার অবস্থিত জঙ্গলে ঘেরা একটি পাহাড়ের তলায়। লোকালয় থেকে দূরে এই গবেষণাগার ৩২০০০ স্কোয়্যার ফুট জায়গা জুড়ে রয়েছে। বিল্ডিং-এর বাইরে একটি সতর্কবার্তা লেখা রয়েছে। সেখানে লেখা আছে, “Strong Prevention and Control, Don’t Panic, Listen to Official Announcements, Believe in Science, Don’t Spread Rumours”.

বিতর্ক আরও জোরদার হওয়ার কারণ, চীনের ‘P4’ ল্যাবের গবেষকরা এর আগে ইবোলা জীবাণু নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন গবেষণায়। যেখানে জানা যায় SARS-CO V-2 জীবাণুর উৎপত্তি বাদুড় থেকে। আমেরিকান সরকারের থেকে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ প্রকাশ করা হচ্ছিল চীন জীবাণু অস্ত্র নিয়ে গবেষণা করছে। আমেরিকার সেক্রেটারি অফ স্টেট মাইক পমপেও জানান, আমেরিকান সরকার তদন্ত করবে কী করে উহান প্রদেশ থেকে করোনা ভাইরাস সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ল।

যদিও উহান প্রদেশের এই ল্যাব থেকে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন চীনের বিদেশ মন্ত্রী ঝাও লিয়েন। তিনি জানিয়েছেন মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও মনোযোগ ঘুরিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে আমেরিকার সরকার। বরঞ্চ তিনি উল্টে অভিযোগ আনেন আমেরিকার সেনাবাহিনী চীনে এই করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, “তাঁরা(চিন) একটি নির্দিষ্ট ধরণের বাদুড়ের কথা বলেছেন, কিন্তু ওই বাদুড় ওই এলাকায় ছিলই না।” তিনি বলেন, ওই এলাকায় বাদুড় বিক্রি হয়নি, সেটা বিক্রি হয়েছিল ৪০ মাইল দূরে।

ভাইরাসের উৎস প্রসঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমি শুধু এটুকু বলতে পারি, এটা যেখান থেকেই, যে রূপেই আসুক না কেন, তা চিন থেকে এসেছে। আর যার কারণে, বিশ্বের ১৮৪ টি দেশ এর ফল ভুগছে।” পাশাপাশি ট্রাম্প জানিয়েছেন, উহানে অনুদান দেওয়া বন্ধ করবে আমেরিকা। ট্রাম্প বলেন, “ওবামা সরকার তাঁদেরকে ৩.৭ মিলিয়ন ডলার অর্থ অনুদান দিয়েছিল। আমরা সেটা খুব শিগগিরি বন্ধ করে দেব।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, চিনে বিজ্ঞানীদের একটি অংশ চিন সরকারের সামনে করোনার প্রাদুর্ভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ‘দ্যা সান’ এ প্রকাশিত রিপোর্টে জানা যাচ্ছে, চিনে যাঁরাই সরকারের বিরুদ্ধে করোনা নিয়ে সরব হয়েছিলেন, তাঁদেরই এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যাঁরাই ‘হুইসেল ব্লোয়ার’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছেন, এবার তাঁরাই উধাও! যা রীতিমতো সন্দেহের আবহ তৈরি করেছে।

Check Also

‘৮০০ বছরের পুরনো মমি’র মুন্ডু লোপাট, ঘনাচ্ছে রহস্য, ভিডিও দেখুন

কোনও প্রাচীন খাজানা নয়, ৮০০ বছরের পুরনো এক মমির মুন্ডু লোপাট হল আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনের এক ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *