Breaking News
Home / HEALTH / করোনায় কিভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় ফুসফুস, গা শিউরে ওঠা সেই চিত্র প্রকাশ!

করোনায় কিভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় ফুসফুস, গা শিউরে ওঠা সেই চিত্র প্রকাশ!

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন ৪৪ বছর বয়সী এমন একজন চীনা ব্যক্তির ফুসফুসের গা শিউরে ওঠার মতো কিছু এক্স-রে এবং সিটি স্ক্যানের কিছু চিত্র প্রকাশ করেছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা। সেখানে দেখা যাচ্ছে করোনাভাইরাস কিভাবে মানুষের ফুসফুসকে ক্ষতিগ্রস্থ করে।

রেডিওলজিকাল সোসাইটি অফ নর্থ আমেরিকা (আরএসএনএ) এই চিত্রগুলি প্রকাশ করেছেন। করোনাভাইরাস মানুষের ফুসফুসকে কিভাবে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে সেটা দেখানোর জন্যই এই চিত্রগুলোপ্রকাশ করা হয়েছে।

লোকটি করোনার উৎপত্তিস্থল উহানের একটি মার্কেটে কাজ করতেন। ক্রিসমাসের দিনে জ্বর ও কাশির উপসর্গ নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তবে দুঃখের বিষয়, তিনি এক সপ্তাহ পরে মারা যান।

এক্স-রে ইমেজগুলিতে দেখা যাচ্ছে,লোকটির ফুসফুসে ছোট ছোট কিছু সাদা প্যাচানো স্পটের সৃষ্টি হয়েছে। রেডিওলজিস্টরা এমন অবস্থাকে ‘গ্রাউন্ড গ্লাস ওপাসিটি’ বলে থাকেন যা ফুসফুসের মধ্যে বায়ু কুঠুরিগুলোকে সংকুচিত করে দেয় এবং রোগীর মৃত্যু ঘটায়।

চিত্রগুলি দেখা যাচ্ছে যে, লোকটিরফুসফুসের তরল ক্রমান্বয়ে খারাপ হচ্ছে।

আরএসএনএ ৫৪ বছর বয়সী একজন করোনায় মৃত্যু হওয়া মহিলার সিটি স্ক্যান চিত্রও প্রকাশ করেছে। সেখানেও একই ধরণের স্পটগুলো দেখা যাচ্ছে।

মহিলাটি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ছিলেন। তিনি নিউমোনিয়া,জ্বর, ক্লান্তি এবং কাশিতে ভুগছিলেন। পরে তারও মৃত্যু হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাভাইরাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে মহামারি হিসাবে ঘোষণা করার কয়েক ঘন্টা পরেই ছবিগুলি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, এ ভাইরাসের বিস্তারের ওপর তারা সার্বক্ষণিক নজর রাখছিলেন এবং এ ব্যাপারে ‘ভীতিকর রকমের নিষ্ক্রিয়তা’ দেখে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এটাকে হালকাভাবে নেওয়ার কোন সুযোগ নেই।

চীন থেকে সূচনা হওয়া এই নতুন করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ সংক্রমণে সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত পৃথিবীজুড়ে ১ লাখের বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছে এবং ৪ হাজার ৩শ’রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এ শব্দটি ব্যবহার না করার পর অবশেষে বুধবার গেব্রেইয়েসুস নিশ্চিত করলেন, করোনাভাইরাসের বিস্তার এখন মহামারির রূপ নিয়েছে। তবে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশ এটা দেখাতে পেরেছে যে, এই নতুন করোনাভাইরাসের বিস্তারকে দমন এবং নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেড্রোস গেব্রেইয়েসুস এবং নির্বাহী পরিচালক ড. মাইকেল রায়ান গেব্রেইয়েসুস সরকারগুলোর প্রতি জরুরি এবং আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নিয়ে এ সংক্রমণের গতিপথ বদলে দেওয়ার আহ্বান জানান।

যখন কোনো ছোঁয়াচে রোগ মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের মাধ্যমে পৃথিবীর বহু অংশে ছড়িয়ে পড়ে তখনই তাকে বলা হয় প্যানডেমিক বা ‘বিশ্বব্যাপী মহামারি’।

গেব্রেইয়েসুস বলেন, গত দু’সপ্তাহে চীনের বাইরে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ গুণ বেড়েছে। তবে তার এ ঘোষণায় করোনাইরাসের ব্যাপারে বিভিন্ন দেশের করণীয় সম্পর্কে দেওয়া পরামর্শে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

Check Also

ডায়েটে শুধুই এগুলোই খাচ্ছেন? বাড়তে পারে হার্টের সমস্যা, হতে পারে মৃত্যুও!

শরীর ভালো রাখতে ও শারীরিক একাধিক সমস্যা দূর করতে চিকিৎসকরা বার বার ডায়েটের দিকে নজর ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *