Breaking News
Home / NEWS / সুপারহিট হয়েও কেন অনাদরে কাটল তাপস পালের শেষ জীবন?

সুপারহিট হয়েও কেন অনাদরে কাটল তাপস পালের শেষ জীবন?

বাংলা সিনেমার দর্শকের অন্যরকম এক আবেগের নাম তাপস পাল। ১৯৮০ সালে প্রথম ‘দাদার কীর্তি’ সিনেমাতে অভিনয় করেই বাঙালির মন জয় করে নেন ২২ বছরের তরুণ অভিনেতা তাপস পাল। এই ছবিতে তার নায়িকা ছিলেন মহুয়া রায় চৌধুরী।

কেদার চরিত্রে অভিনয় করে কোটি হৃদয়ে প্রেমের আলো ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ‘দাদার কীর্তি’র পর ‘ভালোবাসা ভালোবাসা’ নামের আরকটি ছবিতে দেবশ্রীর বিপরীতে অভিনয় করে সাড়া ফেলে দেন তিনি।

পরের ছবিটিও সুপারহিট হয়। ১৯৮১ সালে ‘সাহেব’ ছবিতে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান তাপস পাল।

এরপর দীর্ঘ সময় বাংলা সিনেমায় রাজত্ব করেছেন এই অভিনেতা। একে একে উপহার দিয়েছেন অনেক সুপারহিট সিনেমা। সুরের ভুবনে, মায়া মমতা, সমাপ্তি, চোখের আলো, অন্তরঙ্গ, সাহেব, পর্বতপ্রিয়, দিপার প্রেম, মেজ বউ, পথভোলা, আশির্বাদ, পরশমণি, সুরের আকাশ, শুধু ভালোবাসাসহ তার সিনেমার তালিকাটা বেশ দীর্ঘ। সেই সময় তার বেশিরভাগ সিনেমার নায়িকা ছিলেন দেবশ্রী রায়। শেষের দিকে দেবের কয়েকটি সিনেমাতেও দেখা যায় তাকে।

কলকাতা তো বটেই, ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসেও এক উল্লেখযোগ্য নাম তাপস পাল। অভিনয় করেছেন বলিউডের সিনেমাতেও। মাধুরী দীক্ষিতের প্রথম ছবিতে নায়ক ছিলেন তাপস। ১৯৮৪-তে মাধুরীর বিপরীতে ‘অবোধ’ ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। ওই ছবিতে তাপস পাল মাধুরীর স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ছবিটিতে মাধুরীর চরিত্রের নাম ছিল গৌরী আর তাপস পালের নাম ছিল শঙ্কর।

সুপারহিট এই অভিনেতার শেষ জীবনটা কেটেছে অবহেলা, অনাদরে এবং নানা বিতর্কের দায় মাথায় নিয়ে। অনেকেই বলছেন, সবার কাছ থেকে মুখ লুখিয়ে রাখার এ জীবন নিয়ে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন বাংলার তুমুল জনপ্রিয় এই অভিনেতা।

যে তাপস পাল ছিলেন কলকাতার সিনেমার মধ্যমণিদের অন্যতম একজন কেন তার জীবনে নেমে এলো নিঃসঙ্গতা? সেই প্রশ্নের জবাবে বারবার উঠে আসছে তার রাজনীতিতে যোগ দেয়ার বিষয়টি। ভালোই ছিলেন তিনি অভিনয় নিয়ে। হঠাৎ করে মমতা ব্যানার্জির ডাকে ২০০৯ সালে রাজনীতিতে আসেন তাপস পাল। তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে নির্বাচিতও হন তিনি কৃষ্ণনগর থেকে। এরপর অভিনেতা তাপস পাল হারিয়ে গেলেন বলা চলে।

তবে তারচেয়েও বড় ক্ষতিটা হলো ২০১৪ সালে। জনগণের কাছে দারুণ জনপ্রিয়তার গর্ব ও ক্ষমতার নেশা তাকে গ্রাস করেছিল হয়তো। নইলে অতো বড় মাপের শিল্পী কেন বক্তৃতা দিতে গিয়ে নিজেকে বিতর্কিক করে ফেলবেন! ২০১৪ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্বাচনের কিছুদিন আগে একটি নির্বাচনী প্রচার সভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে তাপস পাল বলেছিলেন, গুন্ডা পাঠিয়ে বিরোধী দলের মেয়েদের ধর্ষণ করাবেন। এই বাক্য তার মুখ থেকে হজম করতে পারেননি কেউ। তার কট্টর ভক্তরাও ছিঃ ছিঃ করে উঠলেন। বিতর্ক বারুদের মতো ছড়িয়ে পড়লে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান তিনি। মূলত সেই থেকেই তাপস পালের একলা হয়ে যাওয়ার শুরু। চারদিক থেকে সবাই সরে দাঁড়াতে লাগল।

আর ২০১৬ সালের শেষ দিকে তাপস পালের জীবনে শেষ ঝড়টা বয়ে গেল রোজ ভ্যালি নামে একটি চিট ফান্ডের সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হবার পর। দীর্ঘদিন ভুবনেশ্বরের জেলে বন্দি ছিলেন তিনি। সেখান থেকে বেরনোর পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। আর স্বাভাবিক হতে পারলেন না। চলে গেলেন ৬১ বছর বয়সে।

শেষ জীবনটা অনেক কষ্টে কাটল তার। জেল, অপমান, লাঞ্চনা এরপর অসুস্থ হয়ে পড়া। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই সুপারহিট, তবু অনাদরে কাটল তাপস পালের শেষ জীবন- এই বিষয়টা সত্যি বেদনার তার ভক্ত-অনুরাগীদের জন্য। আর কোনোদিন ফিরে আসবেন না তিনি। শুধুই থাকবেন তার সিনেমায় স্মৃতি হয়ে।

তার প্রয়াণে কলকাতা সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে গভীর শোক নেমেছে।

উল্লেখ্য, চিকিৎসার জন্য গত ২৮ জানুয়ারি তাপস পালকে মুম্বাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন এই অভিনেতা। মুম্বাইয়ের ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভেন্টিলেশনে রেখে চলছিল তার চিকিৎসা। এরপর মুম্বই থেকে তাপস পালকে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে তার পরিবার। কিন্তু চিকিৎসার আর সেই সুযোগ হলো না তার আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন এই অভিনেতা।

Check Also

সরকারি হাসপাতালে Covaxin-এর দাম ৬০০টাকা, বেসরকারিতে ১২০০

সেরামের পর এবার ভারত বায়োটেক Bharat Biotech কোভ্যাক্সিনের Covaxin দাম ঘোষণা করল। রাজ্য সরকারগুলি কোভ্যাক্সিনের ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *