Breaking News
Home / LIFESTYLE / হবেনা এক্সিডেন্ট, বর্ষায় নিরাপদ ড্রাইভিং করতে মেনে চলুন এই ১০টি টিপস

হবেনা এক্সিডেন্ট, বর্ষায় নিরাপদ ড্রাইভিং করতে মেনে চলুন এই ১০টি টিপস

বছরের অন্যান্য সময়ে আপনি যতটা আপনার বাহন নিয়ে ভাবেন তার থেকে অনেক বেশি আপনাকে ভাবতে হয় বর্ষাকালে। কারণ বর্ষাকালে গাড়ি নিয়ে পথে বেরোনোই একটা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। খানাখন্দে ভর্তি রাস্তায় জল জমে যখন ভর্তি হয় তখন আপনার চোখে তা ধরা পড়ে না। আর তাছাড়া বৃষ্টির মধ্যে গাড়ি চালানোর সময় দৃশ্যমানতা খুবই কমে যায়। জল জমে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায়। মানে এক কথায় নিজেদের মাথায় বিপদ নিয়েই ঘোরাঘুরি করে থাকি। আসুন দেখে নিই গাড়ির কোন কোন জিনিস আমাদের অবশ্যই দেখে নিতে হবে হবে বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই

গাড়ির চাকা :- আপনি দুচাকা মোটর বাইকই চালান আর চারচাকা গাড়িই চালান আর সাইকেল যা খুশি চালাতে পারেন, তবে অবশ্যই ঠিক রাখতে হবে গাড়ির চাকা। গাড়ির চাকায় বিট যদি না থাকে তাহলে বর্ষায় ব্রেক ধরার ক্ষেত্রে দারুন সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনিতেই বর্ষায় রাস্তায় কাদা বা জল জমে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায়। আর তার পর যদি গাড়ির চাকা ঠিক না থাকে, তাহলে যেকোন সময় প্রাণঘাতী বিপদ দেখা যেতে পারে।

এছাড়াও গাড়ির চাকায় যদি কোন উঁচু নিচু অসমান অংশ বা হাওয়ার চাপের তারতম্য দেখা যায় তাতেও নানা সমস্যার মধ্যে আপনি পড়তে পারেন। তাই বর্ষা শুরুর আগে আপনার গাড়ির চাকার এইসব বিষয় সম্বন্ধে ভালো করে পরীক্ষা করে দেখে নিন। সেরকম প্রয়োজন হলে চাকর টায়ার বদলে নিন।

গাড়ির ব্রেক :- বর্ষাকালে অবশ্যই আপনার গাড়ির ব্রেক জবরদস্ত থাকতে হবে। এমনিতেই রাস্তাঘাটে জল থই থই অবস্থা, আর তাছাড়া চাকার ক্ষেত্রে পিছলে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকায়, ব্রেক অবশ্যই মজবুত রাখতে হবে। দরকার পড়লে বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই ঘষে যাওয়া ব্রেক প্যাড পরিবর্তন করে নিতে হবে। এছাড়াও অনেক সময় ব্রেকের মধ্যে যে তরল থাকে তার পরিমানের তারতম্যের জন্য ব্রেক ধরার ক্ষেত্রে পার্থক্য দেখা যায়। তাই এইসব কিছু আপনাকে বর্ষা শুরু হওয়ার আগে জরুরি ভিত্তিতে দেখে নিতে হবে।

গাড়ির লাইটের কাঁচ ও বাল্ব :- বর্ষায় এমনিতেই দৃশ্যমানতা কমে যায় অনেকখানি।আর তারপর যদি গাড়ির লাইটের কাঁচের ফোকাসিং করার ক্ষমতা বা আলো প্রতিফলনের ক্ষমতা কম থাকে তাহলে যেকোন দিন ঘটে যেতে পারে বড়ো কিছু দুর্ঘটনা। তাই লাইটের কাঁচের উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য তাকে ভালো করে ধুলোবালি মুক্ত করতে হবে। তাই কাঁচকে রাখতে হবে পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন। এমনিতে বাজার চলতি নানান ডিটারজেন্ট লিকুইড আছে কাঁচ পরিস্কার রাখার জন্য। তবে বাড়ির মধ্যে থাকা দাঁত পরিষ্কার করার টুথপেস্ট দিয়েও আপনি গাড়ির কাঁচকে পরিচ্ছন্ন রাখতে পারেন।

গাড়ির বিভিন্ন তারের সংযোগ:- গাড়ির মধ্যেই থাকে নানা তারের সংযোগ যা একটি সুসঙ্গবদ্ধ উপায়ে যুক্ত থাকে,তা অবশ্যই বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই দেখে নিতে হবে ভালো করে। কাটা তার বা ছিড়ে যাওয়া তার থাকলে তা উপযুক্ত পদ্ধতিতে সংযুক্ত করতে হবে। এছাড়াও দেখে নিতে হবে গাড়ির মধ্যে থাকা খোলা তার, কাটা তার যদি থাকে তাহলে তা ঠিকভাবে লাগিয়ে নিতে হবে। এছাড়াও গাড়ির ফিউজ দেখে নিতে হবে। বর্ষাকালে সমসময় নিজের কাছে একটা বাড়তি ফিউজ রাখলে আখেরে লাভ হবে আপনারাই। এছাড়াও বিভিন্ন লাইটের কাঁচের ক্ষেত্রে জল যাতে লাইটের কাছাকাছি প্রবেশ না করতে পারে তারজন্য ভেসলিন জাতীয় রাসায়নিক দিয়ে লাইটের চারিদিক লাগিয়ে দিতে পারেন যাতে করে লাইটের ভেতরে জল স্পর্শ না করে।

গাড়ির ভিতরের অবস্থা :- বর্ষাকালে এমনিতেও যখন বাতাসে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি থাকে সবচেয়ে বেশি, তখন আপনার গাড়ির ভেতরে যদি স্যাতস্যাতে ভেজা পরিবেশ থাকে তাহলে নানা ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক গাড়ির ভেতরে জন্ম নিতে পারে। আর তাই গাড়ির ভেতরের অবস্থা ঠিক রাখতে গেলে গাড়িকে রাখতে হবে আবর্জনমুক্ত।গাড়ির কেবিন অংশে জল ঢুকতে পারলে নষ্ট করে দিতে পারে সকল মেঝের অংশ যা কার্পেট দিয়ে সাধারণত ঢাকা থাকে।এছাড়াও গাড়ি না ব্যবহার হলে জানালার কাঁচ খুলে রাখতে হবে গ্যারেজে।তবেই ছাত্রকের জন্ম হবে না । আর তাছাড়া নানান ভালো ফ্রেশনার ব্যবহার করে সকল প্রকার দুর্গন্ধ থেকে গাড়িকে রেহাই দিতে পারেন।এছাড়াও সামনের ধাতব অংশে মানানসই রঙের প্রলপে দিলে তাতে মরচে পড়বে না।

চারচাকা নিয়ে বাইরে বৃষ্টিতে বেরোনোর সময় অবশ্যই মনে রাখবেন ,গাড়িতে যদি শীততাপ নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা থাকে তাহলে জোরে বৃষ্টির সময় এসির হাওয়া যাতে সামনের কাঁচে পড়ে তার ব্যবস্থা করতে পারলে ভালো হয়, তাহলে কাঁচের মধ্যে যে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয় তা সহজেই কাটানো যাবে। এছাড়াও বৃষ্টির সময় বা রাস্তায় জল জমে থাকলে গাড়ি ধীরে চালান তাহলে আপনার গাড়ির উপর নিয়ন্ত্রণ ঠিক থাকবে,এবং দুর্ঘটনা কম ঘটবে। দুচাকার ক্ষেত্রে উপরের সকল অংশের প্রয়োজন না হলেও বেশিরভাগ অংশের দরকার আছে ।তবে এক্ষেত্রে বাড়তি সুরক্ষা দিতে হয় যেসব অংশগুলিতে তা হল,

গাড়ির চেন :- দুচাকা গাড়ির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন অংশ হল গাড়ির চেন।বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই আপনাকে আপনার দুচাকা মোটরবাইকের ক্ষেত্রে চেন পরীক্ষা করে দেখে নিতে হবে তাতে ময়লা ,মাটি বা ধুলো বসেছে কি না।যদি খুব বেশি ময়লা ,মাটি বা নোংরা বসে থাকে তাহলে তা ভালোভাবে পরিষ্কার করে তাতে গ্রিজিং বা লুব্রিকেটিং তেল লাগাতে হবে উপযুক্ত পরিমানে যাতে তা কম ঘর্ষনহীন অবস্থায় চলতে পারে।এছাড়ারাও চেন চলতে চলতে বড়ো হয়ে যায় ,তাকে ঠিকভাবে গাড়ির উপযুক্ত রাখতে হবে।৫০০কিমি যাওয়ার পর পর চেন একবার করে লুব্রিকেটিং করে নিতে হবে।দেখে নিতে হবে চেনের ভেতরের খাঁজ গুলি ঘষে নষ্ট না হয়ে গিয়েছে কি না ।যদি তা নষ্ট হয়ে যায় তাহলে সেই চেন ব্যবহার না করাই ভালো।

গাড়ি সার্ভিসিং :- বর্ষাকাল শুরু হওয়ার আগেই পারলে একবার অবশ্যই গাড়ির সার্ভিসিং করিয়ে নিন ।তাতে যেসব অংশে ত্রুটি লক্ষ্য করা গিয়েছে তা সহজেই মেরামত করা যাবে এবং তা বর্ষার রাস্তায় বেরোনোর উপযোগী হয়ে যাবে।এবং বর্ষা চলাকালীন অবশ্যই নিয়ম করে ২০০০ কিমি গাড়ি চলার পর তা অবশ্যই সার্ভিসিং করান এবং ইঞ্জিনের মোবিল পরিবর্তন করুন।এছাড়াও স্টার্ট প্লাগ ঠিক রাখুন বা পারলে নিজের কাছে একটা বাড়তি রাখুন।বিপদের সময় তা অবশ্যই আপনার কাজে লাগবে।নিজে থেকে কীভাবে স্পার্ক প্লাগ চেঞ্জ করতে হয় তা এখুনি শিখে নিন।

গাড়ির ইঞ্জিন :- গাড়ির ইঞ্জিনের দিকেও আপনাকে অবশ্যই নজর দিতে হবে।এক্ষেত্রে আপনাকে মনে রাখতে হবে যেন ইঞ্জিনে রাস্তার কাদা মাটি না লাগে বর্ষাকালে ।তাই অবশ্যই গাড়ির ইঞ্জিনের আগে মাডগার্ড লাগান কাদা বা নোংরা জল থেকে ইঞ্জিনকে রক্ষা করার জন্য।যদি তাতেও কাদামাটি লেগে যায় তাহলে তা ইঞ্জিনে শুকিয়ে যাওয়ার আগেই ইঞ্জিন থেকে ধুয়ে ফেলুন জল দিয়ে ।তবে অবশ্যই গরম ইঞ্জিন থেকে নিজের হাত বা পা পুড়ে না যায়।

হেলমেট ব্যবহার :- দুচাকা গাড়ি চালানোর সময় অবশ্যই মাথায় রাখবেন হেলমেট।এই হেলমেট আপনার জীবনের নিরাপত্তা যেমন দেবে তেমনি আপনাকে বর্ষাকালে বৃষ্টি বা ঝড়ের সময় ধুলোবালি থেকে চোখকে বাঁচতেও সাহায্য করবে।আপনি শুধু নিজে নন, যদি আপনার সঙ্গে বাড়তি কোন আরোহী থাকে তারও যেন অবশ্যই মাথায় হেলমেট থাকে।তবে বর্তমানে বাজার চলতি যেকোনো হেলমেট দিয়ে কিন্তু সকল রকম সুরক্ষা বজায় থাকে না।আপনি অবশ্যই হেলমেট কেনার সময় ISI চিহ্ন যুক্ত হেলমেট কিনুন।এই হেলমেট ভারত সরকারের ISI সংস্থা দ্বারা পরীক্ষিত।নিজের জীবন নিয়ে ঝুঁকি নেবেন না ।কারন আপনার মুহূর্তের ভুলে বড় রকমের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে যা কখনোই কাম্য নয়। মনে রাখবেনএকটা ভালোমানের হেলমেটের তুলনায় আপনার মাথার বা জীবনের দাম কয়েক লক্ষ গুন বেশি।

বর্ষাতি :- বর্ষাকালে দুচাকা মোটরবাইক নিয়ে বাইরে বেরোনোর সময় অবশ্যই সঙ্গে থাকবে একটা ভালো মানের জাল নিরোধী বর্ষাতি।যাতে তা পরলে সহজেই বর্ষার জল বা বৃষ্টি আপনার শরীরে প্রবেশ করতে পারে না এবং আপনার পোশাককেও না ভেজায়।এইসময় নিজের ব্যাগের সঙ্গে রাখুন ভালো মানের প্লাস্টিক যাতে আপনার মোবাইল বা মানিব্যাগ এবং অন্যান্য দরকারি জিনিস রাখতে পারেন নির্দ্বিধায়।এবং তা জলরোধী হওয়ায় এইসব জিনিস যেন ঠিক থাকে।আপনার ব্যবহৃত ব্যাগের কাপড় বা লেদার জলরোধী পদার্থ দিয়ে বানানো হলে তা একদম বর্ষায় ব্যবহারের উপযোগী।আর তা যদি না হয় তাহলে ব্যাগ ঢাকা দেওয়ার জন্য সঙ্গে রাখুন বড়ো মাপের উন্নত মানের জলনিরোধী প্লাস্টিক।

গাড়ির বডি :- বর্ষা শুরু হওয়ার আগে গাড়ি ধুয়ে পরিষ্কার করার পর তাতে মোম জাতীয় পালিশ দিয়ে পালিশ করিয়ে নিলে গাড়ির গায়ে জলও ধরবে না অনায়াসে। এছাড়াও গাড়ির প্রত্যেকটি দরজার কব্জায় গ্রিজ দিয়ে বা তেল দিয়ে রাখলে তা সহজে যেমন খোলে তেমনি সহজে লেগেও যায়। এছাড়া দরজা বা সামনের কাঁচের বিভিন্ন লাইনিংয়ে যে রাবারের আস্তরণ থাকে তা ভালো করে দেখে নেওয়া ভালো, কারণ এইসব পথ দিয়েই বাইরের বৃষ্টির জল ভেতরে প্রবেশ করে। গাড়ির বাইরের অংশে কোন ধাতব অংশ থাকলে তাতে অবশ্যই দিন মরচে প্রতিরোধী রঙের বা তরলের প্রলেপ।

গাড়ির ওয়াইপার :- বর্ষাকালে চারচাকা গাড়ির ওয়াইপার যদি ঠিক না থাকে তাহলে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বহুগুন বেড়ে যায়। সাধারণত গাড়ির সামনের কাঁচের ওয়াইপার চালকের দৃশ্যমানতা বাড়াতে সাহায্য করে। ওয়াইপার ব্লেডের রাবার ঢাকা অনেকসময় আলগা হয়ে খুলে যায়, ফলে বর্ষার সময় গাড়ির চালকের সাথে সাথে গাড়ির যাত্রীদেরও জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এছাড়াও ওয়াইপার বোতলের জলে আপনি সামান্য পরিমান ডিটারজেন্ট মিশিয়ে দিলে তা সামনের কাঁচের উজ্জ্বলতা কয়েকগুন বাড়িয়ে দেয় এবং এর ফলে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। তাই অবশ্যই ঠিক করে দেখে নিন আপনার গাড়ির উইন্ড স্ক্রিন ওয়াইপারের বর্তমান অবস্থা।

বাড়তি সতর্কতা বলতে দুচাকা গাড়ি নিয়ে বর্ষায় রাস্তায় বের হওয়ার সময় অবশ্যই গাড়ির গতি কম রাখুন, পিচ্ছিল রাস্তায় গাড়ি নিয়ে না যাওয়ায় ভালো।গাড়িতে আরোহীর সংখ্যা একের বেশি না রাখায় উচিত।জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একদমই ভুলেও দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে নিজের সাথে সাথে পরিবারের সদস্যদের চিন্তিত করে তুলবেন না।মনে রাখবেন বিপদহীন যাত্রা তখনই সম্ভব যখন আপনি হবেন দায়িত্বশীল ও যত্নবান।রাস্তায় বেরোলে অবশ্যই ট্রাফিক আইন মেনে চলুন। এইভাবেই বর্ষায় নিজেকে রাখুন বিপদমুক্ত এবং পরিবারকে দিন নিরাপদ ভবিষ্যতের ভরসা।

Check Also

ভাত রান্না ছাড়াও আরও ৮ ভাবে চালকে ব্যবহার করতে পারেন, যা আপনি কখনই জা’নতেন না!

চাল দিয়ে নানা পদের রান্না কে না জা’নেন৷ কিন্তু হেঁশেলের বাইরেও চাল ব্যবহার করা যায় ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *