Breaking News
Home / INSPIRATION / ভারতের প্রথম মহিলা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন এই বাঙালী কন্যা

ভারতের প্রথম মহিলা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন এই বাঙালী কন্যা

বর্তমানে পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যে কোন কাজে পারদর্শী হয়ে উঠেছেন মহিলারাও। বর্তমান সমাজে পুরুষ মহিলার সেই ভেদাভেদ আর দেখা যায় না বললেই চলে। কিন্তু বেশ কয়েক বছর আগে মহিলাদের কাছে এই যাত্রাপথ ততটা মসৃণ ছিল না।আজ এ রকমই এক বাঙালি কন্যার গল্প শুনবো আমরা। 1995 সালে কলকাতা তারাতলা মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ কর্তৃপক্ষ এক জরুরী মিটিং আহবান করেছিল। ওই বছরে চার বছরের মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে সফল হয়েছেন এক তরুণী।

কলেজটি স্থাপিত হবার পর এই প্রথম কোন মেয়ে এখানে ভর্তির আবেদন করেছে কিন্তু সবথেকে বড় সমস্যা এটাই যে মেয়েটি থাকবে কোথায়?তখন ওই কলেজে কোন মহিলা হোস্টেল বা মহিলা কর্মচারী ও ছিল না। অবশেষে কলেজ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে অধ্যাপক দের জন্য নির্মিত একটি ফাঁকা কোয়ার্টারে মেয়েটি থেকে পড়াশোনা করবে। পরিবারের সকলের ছিল প্রবল আপত্তি এবং অনিচ্ছা কিন্তু তবুও মেয়েটি তার কাকার মার্চেন্ট নেভির কাজ করার গল্প শুনে ছোট বয়স থেকেই মনের মধ্যে জেদ তৈরি করে ফেলেছিলো যে সে যাহোক করে হোক মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করবে। সমুদ্রের নীল অথৈ জলে জাহাজ নিয়ে ভেসে বেড়াবে সে। এটাই স্বপ্ন ছিল মেয়েটির।

প্রথম প্রথম সহপাঠীরা মেয়েটিকে তাচ্ছিল্য করলেও তারপরেই মেয়েটির প্রতিবার সকলের নজর কাড়লো। অধ্যাপকরা মেয়েটির ধৈর্য এবং অধ্যাবসায় দেখে অভিভূত হয়েছিলেন। প্রতিটি সেমিস্টারে মেয়েটি প্রথম হত। 1999 সালে মেয়েটির প্রথম মহিলা মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং এর ডিগ্রি নিয়ে পাস করল। এবার জাহাজে on-board ট্রেনিংয়ের অন্বেষণ করছিল সে। কিন্তু বিপত্তি বাধল এখানে। সেই সময়ে এই পেশায় কোন জাহাজ এক তরুণীকে শ্রেণী হিসেবে নিতে রাজী হচ্ছিল না।

অবশেষে অনেক অনুরোধের পর Mobil Shipping Co. নামক এক মালয়েশিয়ান কার্গো জাহাজের শিক্ষার সুযোগ পেল সে। একা মহিলা হিসাবে সেই পাড়ি জমিয়েছিল থাইল্যান্ড, হংকং, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর অস্ট্রেলিয়ায়। বাড়ি থেকে বহুদূরে পৌঁছে বাড়ির সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ করতে পারত না সে কিন্তু তবুও সে ছিল তার লক্ষ্যে অবিচল।

মাসের-পর-মাস নিজের কর্তব্য পালন করে গিয়েছে ওই তরুণী। অবশেষে 2001 সালের 26 শে আগস্ট প্রথম এক মার্চেন্ট নেভির জাহাজের ইঞ্জিন রুমের দায়িত্ব এসে পড়ল তার কাঁধে। অবশেষে কঠিন পরিশ্রমের দ্বারা স্বপ্ন সফল করতে পেরেছিলেন ভারতের প্রথম মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সোনালী ব্যানার্জি। ভারতের প্রথম মহিলা মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে তিনি বঙ্গ কন্যাদের এক গৌরবময় স্থানে আসীন করেছেন।

Check Also

আপন মা নারাজ, পুত্রবধূকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন শাশুড়ি

নিজের কিডনি দিয়ে পুত্রবধূর জীবন বাঁচিয়েছেন এক শাশুড়ি। যখন একান্নবর্তী পরিবার ভেঙ্গে ক্রমশ ছোট হচ্ছে। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *