Breaking News
Home / NEWS / দেশে করোনায় সুস্থতার হার বাড়ছে কেন, বিশেষজ্ঞরা কি বলছেন

দেশে করোনায় সুস্থতার হার বাড়ছে কেন, বিশেষজ্ঞরা কি বলছেন

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৫ হাজার ৪১৩ জন নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধির হিসাবে যা এখনও অবধি সর্বাধিক। এক দিনে এত সংখ্যক মানুষ এর আগে আক্রান্ত হননি। এই বৃদ্ধির জেরে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হল চার লক্ষ ১০ হাজার ৪৬১ জন।

দেশে অনেকাংশেই উঠে গিয়েছে লকডাউন। লোকাল ট্রেন, মেট্রো এবং আন্তর্জাতিক উড়ান বাদ দিলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায় পুরোটাই চালু হয়ে গিয়েছে। এ ভাবে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে শেষ পর্যন্ত তা কোথায় গিয়ে থামবে, সে নিয়ে যথেষ্ট চিন্তার কারণ রয়েছে। ভারতে বর্তমানে কোরোনা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যাক্তিদের সংখ্যা ৪ লক্ষ ছাড়িয়েছে।

তবে আক্রান্তের সংখ্যার লাফিয়ে বেড়ে চলা যেমন আতঙ্কের কারন তেমনই আশা দেখাচ্ছে সুস্থতার হাত। কিছুদিন আগেও দেশে সুস্থতার হার ছিল ৫০% যা এখন বেড়ে দাড়িয়েছে ৫৩.৭৯%। তাহলে কি কেটে গেল বিপদ? কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা? মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সুকুমার মুখোপাধ্যায়ের মতে সুস্থতার হার বাড়ছে তবে একই সঙ্গে দৈনিক ভাবে কতজন আক্রান্ত হচ্ছেন এবং কতজন এবং দৈনিক ভাবে কতজন সুস্থ হচ্ছেন সেটিও দেখতে হবে।

পুরুষ না মহিলা, করোনায় কাদের মৃত্যুর হার বেশি ও কেন
তিনি বলেন ইউরোপের কিছু দেশের তুলনায় ভারত তুলনামূলক ভালো অবস্থায় আছে ঠিকই কিন্তু আমরা যে নিরাপদ সেটা বলার সময় এখনও আসেনি বলে মনে করছেন তিনি। তিনি আরও বলেন যে একটি ভয়ের বিষয়ও আছে যে রোগীদের সুস্থ হয়ে ওঠার হারের সাথে সাথে মৃত্যুর হারও বাড়ছে।

কয়েক সপ্তাহ আগে যেখানে ভারতে মৃত্যুর হার ছিল ২.৮ শতাংশ সেখানে সেই হার এখন বেড়ে হয়েছে ৩.৪ শতাংশ। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে মৃত্যুর হার বেড়ে ৪ শতাংশ হয়েছে। মৃত রোগীদের সংখ্যা দেখলে দেখা যাচ্ছে তাদের মধ্যে অধিকাংশই বয়স্ক, হাই ব্লাড প্রেসার, হার্টের অসুখ বা অন্যান্য কোনো ক্রনিক সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন এবং অন্যদিকে যারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন তাদের বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই সংক্রমন ছিল মাইল্ড।

বে অন্যদিকে কার্ডিওথোরাসিক সার্জন কুণাল সরকারের কথায় যেসব রোগীরা সুস্থ হয়ে উঠেছেন তাদের সংখ্যার সাথে আক্রান্তের সংখ্যার তুলনামূলক পর্যবেক্ষন কতটা ঠিক সেটা নিয়ে একটা প্রশ্ন থাকেই। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে আজ যে ব্যাক্তিরা সুস্থ তারা ১৪ দিন বা তারও আগে সংক্রমিত হয়েছিলেন।সেই জন্যই এই তুলনা নিয়ে সংশয় আছে তার।

তিনি বলেন যে একদম প্রথম যখন দেশে কোরোনা ভাইরাসের দাপট শুরু হলো সেইসময় উপসর্গ থাকুক বা না থাকুক, টেস্টের রেজাল্ট পজেটিভ হলেই তাকে ভর্তি করা হতো হাসপাতালে। এইসব ব্যাক্তিরা সকলেই সুস্থ হয়ে ফিরেছেন। মি. সরকারের মতে গুরুতরভাবে অসুস্থ ব্যাক্তিদের কতজন সুস্থ হয়ে উঠেছেন সেই পরিসংখ্যান জানা প্রয়োজন। ভারতে মৃত্যুর হার বিশ্বের নিরিখে সত্যিই অনেক কম। দেশে ২০ লক্ষ মানুষ পিছু মৃত্যুর হার বেশী হলে ১০ জন এবং অন্যদিকে ইতালি, স্পেন, আমেরিকা ইত্যাদি দেশে সেই সংখ্যা ৪৫০-৫০০ জন। তার মতে এইদিক থেকে এখনও অনেকটা ভালো অবস্থানে আছে ভারত।

কুনালবাবুর মতে ইতালি, স্পেন বা আমেরিকার তুলনায় মৃত্যুর হার আমাদের দেশে কম হলেও তা চীন কোরিয়া বা জাপানের থেকে কিন্তু অনেক বেশী।সেইজন্য কোনোভাবেই নিজেকে নিরাপদ ভাবা চলবেনা। যারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন,তাদের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে তাদের মধ্যে সাধারণত কারুরই বয়স খুব বেশী নয় এবং তাদের শরীরে কোনো ক্রনিক অসুখ নেই। তবে আমাদের দেশে ইতালি বা আমেরিকার থেকে সিনিওর সিটিজেন সংখ্যা কম। কিন্তু তা সত্বেও ভারতীয় মানুষরা কোরোনা ভাইরাসকে জয় করেছে এরকম ভাবার সময় আসেনি। তবে তার মতে এত বড় জনসংখ্যায় যা আশঙ্কা করা হয়েছিল তার থেকে ভালো অবস্থানে আছে ভারত কিন্তু এখনও সামাজিক দূরত্ব বজায়, হাত ধোয়া,মাস্ক পড়া ইত্যাদি স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে হবে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, লক্ষাধিক সংক্রমণ ও পাঁচ হাজারের উপর মৃত্যু নিয়ে দেশের শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র। গত ২৪ ঘণ্টায় তিন হাজার ৮৭৪ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন সেখানে। এ নিয়ে সেখানে মোট আক্রান্ত হলেন এক লক্ষ ২৮ হাজার ২০৫ জন। এর পরই রয়েছে তামিলনাড়ু। সেখানে মোট আক্রান্ত ৫৬ হাজার ৮৪৫ জন। দিল্লিতে এখন মোট আক্রান্ত ৫৬ হাজার ৭৪৬ জন। চতুর্থ স্থানে থাকা গুজরাতে মোট আক্রান্ত ২৬ হাজার ৬৮০ জন। দেশের মোট সংক্রমণের মধ্যে ৬৫ শতাংশই এই চারটি রাজ্য থেকে।

Check Also

হাওড়া স্টে’শনে এই ভুল’টি করলে’ই এবার মোটা টাকার জরিমানা, পড়ুন বিস্তারিত

স্টেশনে কিংবা ট্রেনের বগির ভিতরে বিজ্ঞাপন দিয়েও কোনো কাজের কাজ হচ্ছে না, জোরদার চলছে মাইকে ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *