Breaking News
Home / NEWS / বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে কীভাবে করোনা মুক্ত হল নিউজিল্যান্ড, দেখে নিন

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে কীভাবে করোনা মুক্ত হল নিউজিল্যান্ড, দেখে নিন

একটা লক্ষ্যের দিকে সব কটি দেশই ছুটছিলো, বেশিরভাগ দেশেই বিফল, তবে নিউজিল্যান্ড সেখানে সফল। আর গোটা বিশ্বকে দেখিয়ে দিল হ্যাঁ করোনাকেও হারানো সম্ভব।

গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছিল লড়াই। ২৮শে মার্চ সংক্রমিত সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১৪৬ জনে। তারপরের এক সপ্তাহে সংক্রমিতের সংখ্যা ১০০-রও নীচে। ৮ই এপ্রিল থেকে ১৯শে মে পর্যন্ত সংক্রমিত সংখ্যা ৫০-এরও নীচে ছিল। তারপর গত ১৭ দিন ধরে ৪০ হাজার মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা হয় নিউজিল্যান্ডে। ফলাফল হয় শূন্য।

প্রতিটি দেশে যেখানে সংক্রমিত সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সেখানে নিউজিল্যান্ডে মোট সংক্রমিতের সংখ্যা ১১৫৪ জন। মৃতের সংখ্যা ২২-এ এসে থেমেছে। গত মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকেই সেখানকার দোকানপাট, অফিস, কাছারি শপিংমল খুলতে শুরু করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে থাকে।

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডেন যখন প্রথম সুখবরটি পান তখন তিনি নিজের ড্রইংরুমে মেয়েকে নিয়ে আনন্দে নাচতে শুরু করেন। কিন্তু এই আনন্দের মাঝেও তিনি অত্যন্ত সচেতন ও সাবধানী। দেশের নাগরিককে সাবধান করে বলেছেন এই লড়াই এখানেই শেষ নয় আমরা কতদিন আমাদের দেশকে করোনামুক্ত রাখতে পারি এটাই এখন দেখার। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও সেল্ফ কোয়ারেন্টাইনে থাকা বাধ্যতামূলক বলে তিনি জানিয়েছেন।

কীভাবে করোনা মুক্ত হল নিউজিল্যান্ড?
আসলে নিউজিল্যান্ড প্রথম থেকেই কতকগুলি পরিকল্পনামাফিক কাজ করেছে। কতগুলি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে তাদের দেশ আজ করোনামুক্ত। পদক্ষেপগুলি হল:

১) গত ১৯শে মার্চ ২৮ জনের করোনা পজিটিভের কথা জানতে পারার পরই নিউজিল্যান্ড সরকার সীমান্ত বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং তার সাথে ১০০ জনের বেশি জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

২) চারটি স্তরে আর্ডেন সরকার লকডাউন ঘোষণা করে। ২৩ শে মার্চ প্রাথমিক সর্তকতা জারি করার দুদিন পরেই লেভেল ৩ লকডাউন জারি করা হয়। সকল ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রতিষ্ঠান, অনুষ্ঠান, স্কুল কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

৩) এরপরই লকডাউন ৪ ঘোষণা করে দেয় আর্ডেন সরকার। করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা তখন মাত্র ২৮৩। দেশজুড়ে পুরোপুরি লকডাউন কার্যকর করে এই সময়।

৪) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে বুঝতে পেরেই ২৭শে এপ্রিল লকডাউন ৩ জারি করা হয় অর্থাৎ কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই সময় থেকে ছাড় দেওয়া হয়।

বিগত ১৭ দিনে কোনো নতুন সংক্রমণের খবর না আসায় লকডাউন ১ এ ফিরিয়ে আনা হয় দেশকে। তবে এখনো অবধি তারা বেশকিছু বিধি-নিষেধ কড়া ভাবেই পালন করছে। কারণ সংক্রমণ ভয় তারা এখনো উড়িয়ে দিচ্ছে না।

করোনা পরীক্ষা ক্ষেত্রেও তারা প্রথম থেকেই কড়া হাতেই বিষয়টিকে দেখেছিল।

১) করোনা প্রভাবিত দেশ থেকে যেসকল নাগরিকরা আসছিলেন তাদের প্রত্যেকের নমুনা পরীক্ষা করা শুরু হয় মার্চের শুরু থেকেই। অর্থাৎ তখনো অব্দি নিউজিল্যান্ডে সেভাবে করোনা প্রবেশই করেনি। কিন্তু তারা প্রথম থেকেই বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছিলেন।

২) গোষ্ঠী সংক্রমণ রুখতে ১৬ই এপ্রিলের পর থেকে বারংবার টেস্ট করা শুরু হয়। এই সময় ২ লক্ষ ৯৪ হাজার ৮০০ মানুষের টেস্ট করা হয়।

জনসংখ্যা ও জনঘনত্ব
জনসংখ্যা ও জনঘনত্বের দিক থেকে বিবেচনা করলে দেখা যায় নিউজিল্যান্ডের জনসংখ্যা ও জনঘনত্ব ভারতের তুলনায় অনেক কম। ২০১৯ সালে সেই দেশে জনঘনত্ব যখন ছিল মাত্র ১৮.৩ প্রতি বর্গ কিলোমিটার, তখন ভারতের জনঘনত্ব ৩৮২ প্রতি বর্গ কিলোমিটার। করোনা সংক্রমণ রুখতে ভৌগলিক পরিকাঠামোও অনেকখানি কার্যকরী হয়েছে।

শিক্ষা সচেতনতা ও বয়স
করোনা সংক্রমণের ভয় বেশিরভাগ থাকে বৃদ্ধ মানুষের। নিউজিল্যান্ডে ৬৫-র ঊর্ধ্বে বসবাস করে ১৫.৫৭ শতাংশ মানুষ। সেখানে শিক্ষার হার ৯৯%। বেশিরভাগ মানুষ এখানে শিক্ষিত ও সচেতন হওয়ায় তারা নিজে থেকেই সর্তকতা অবলম্বন করেছে।

নিউজিল্যান্ডের মোট জিডিপির ৫.৮ শতাংশ পর্যটনশিল্প থেকে আসে। কিন্তু ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সকল সীমান্ত বন্ধ হয়ে যায় শুধু দেশের নাগরিকদের দেশে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। যদিও সেক্ষেত্রেও ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন থাকা ছিল আবশ্যক।

Check Also

হাওড়া স্টে’শনে এই ভুল’টি করলে’ই এবার মোটা টাকার জরিমানা, পড়ুন বিস্তারিত

স্টেশনে কিংবা ট্রেনের বগির ভিতরে বিজ্ঞাপন দিয়েও কোনো কাজের কাজ হচ্ছে না, জোরদার চলছে মাইকে ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *