Breaking News
Home / HEALTH / করোনা প্রতিরোধে ভরসা তিন হোমিওপ্যাথি ওষুধ, ক্নিনিক্যাল ট্রায়ালে গ্রীন সিগন্যাল কেন্দ্রের

করোনা প্রতিরোধে ভরসা তিন হোমিওপ্যাথি ওষুধ, ক্নিনিক্যাল ট্রায়ালে গ্রীন সিগন্যাল কেন্দ্রের

করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। অন্যদিকে এখনও পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি কোনও ওষুধ বা প্রতিষেধক। এমন অবস্থায় হোমিওপ্যাথি ও আয়ুর্বেদিক বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করার জন্য শুরু হয়েছে ট্রায়াল। এই ট্রায়াল গুলির মূল উদ্দেশ্য মানুষের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে কোরোনা ভাইরাস মোকাবিলা করা।

ইতিমধ্যেই তিনটি হোমিওপ্যাথি ওষুধের ট্রায়ালকে অনুমতি দিল ‘সেন্ট্রাল কাউন্সিল ফর রিসার্চ ইন হোমিওপ্যাথি’ এবং দেশে কোরোনা পরিস্থিতি সংক্রান্ত সর্বোচ্চ টাস্ক ফোর্স। এই ওষুধ তিনটির নাম আর্সেনিকাম অ্যালবাম, ফসফরাস, টিউবারকুলিনাম। এই তিনটির পর্যায়ক্রমিক ব্যভারেই কোরোনা ভাইরাসকে কাবু করার চেষ্টা শুরু হবে। জাপানি এনসেফেলাইটিসের সময়ও এই তিনটি ওষুধ কাজ করেছিল।

বেশ অনেকদিন আগেই আর্সেনিকাম অ্যালবাম ৩০ নিয়ে অ্যাডভাইজরি দিয়েছিল কেন্দ্রীয় আয়ুশ মন্ত্রক। বলা হয় এই ওষুধ কোরোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তুলবে। কিন্তু পরে দেখা যাচ্ছে শক্তিশালী করোনা ভাইরাসকে একা কাবু করতে পারছেনা সে। তখনই আর্সেনিকার সঙ্গী হিসেবে টিউবারকুলিনাম ও ফরফরাসের কথা উঠে আসে।

চিকিৎসকদের কথায় এই দুটি ওষুধ মূলত আর্সেনিকামের কার্যকারিতা বাড়াবে এবং তার প্রভাবকে দীর্ঘস্থায়ী করবে। এই আশায় ভরসা করেই শুরু হতে চলেছে ট্রায়াল। ট্রায়াল করা হবে পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, কেরল, গুজরাত, দিল্লির কনটেনমেন্ট জোনের মানুষদের ওপর। এর আগেও যখন জাপানি এনসেফেলাইটিস ছড়িয়ে পড়তে থাকে সেই সময় কেরল এবং তামিলনাড়ুর সরকার পর্যায়ক্রমিক ভাবে বেলেডোনা, ক্যালকেরিয়া কার্ব এবং টিউবারকুলিনাম প্রয়োগ করেছিল এবং তাতে ফলও লাভজনক হয় বলেই জানা যায়।

এই সম্পূর্ণ ট্রায়ালের ক্ষেত্রে যে গবেষণা দল থাকবে তার প্রধান গবেষক দুইজন হোমিপ্যাথি চিকিৎসক। একজন ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হোমিওপ্যাথি’, কলকাতার প্রাক্তন অধ্যাপক ডা. অশোককুমার দাস এবং অপরজন ভারত সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা তথা তামিলনাড়ুর সারদাকৃষ্ণ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজের ( এই কলেজের তত্ত্বাবধানেই গবেষণা চলবে) পরামর্শদাতা অধ্যাপক ডা. রবি এম নায়ার।

ডা. অশোক কুমার দাসের কথায় এর আগে বিভিন্ন মহামারি যেমন কলেরা, স্প্যানিশ ফ্লু, ইত্যাদির ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা পালন করেছে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা। যেহেতু প্যথজেনের বদলে উপসর্গের ওপর ভিত্তি করে এই চিকিৎসা হয় সেক্ষেত্রে ভাইরাসের চরিত্রের বদলে ওষুধের কার্যকারিতা এর ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য হবেনা। মূলত এলোপ্যাথি চিকিৎসা এই প্যথজেনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে বলেই প্রতিষেধক আবিষ্কারে বিলম্ব ঘটছে। কোরোনা ভাইরাস ক্রমশ নিজের জিনোম বদল ঘটাচ্ছে এবং শুধু তাই নয়, আলাদা আলাদা দেশে এর টাইপ আলাদা আলাদা হচ্ছে। হোমিপ্যাথিতে অবশ্য সেটা সমস্যার কারণ নয়।

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় হোমিওপ্যাথি কে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সেই নিয়ে নানান গবেষণা চলেছে বিগত কিছু মাসে। সেক্ষেত্রেই আগেই আর্সেনিকামের কথা উঠে এসেছে। পরবর্তীকালে গবেষণাতে আরও দেখা গেছে তার সাথে ফসফরাস মেশালে আর্সেনিকামের কার্যকারিতা এবং আয়ু দুইই বাড়বে। তবে শুধু এটুকুই নয়, ফসফরাস রোগীর শরীরে রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

অশোক কুমার দাস জানান সম্প্রতি ইতালিতে ৩৮ জন এই শিরা উপশিরাতে রক্ত জমাট বাঁধার ( ‘ডিসিমিনেটেড ইন্ট্রাভাসকুলার কোয়াগুলেশন) ফলেই মারা গিয়েছেন, এই ক্ষেত্রে যাবতীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যর্থ হয়েছে। এই ঝুঁকিকে কমাতে সাহায্য করবে ফসফরাস।

এবার আসা যাক টিউবারকিউলিনাম এর কথায়। মার্কিন গবেষকদের দাবি যে কোনো ব্যাক্তির যদি বিসিজি নেওয়া থাকে তবে তার শরীরে কোভিদ ১৯ ভয়াবহ রূপ নেয় না। মৃত্যুর হারও কমে।এই বিসিজি ভ্যাকসিনের মূল উপকরণ টিউবারকিউলোসিসের বীজাণু। এছাড়াও সর্দি কাশির ধাত যাদের আছে সেক্ষেত্রেও টিউবারকিউলিনাম ওষুধটি কার্যকর।

মূলত সেই কারণেই আর্সেনিকাম এর সাথে এবার ফসফরাস, টিউবারকিউলিনাম (এপিটি) এর পর্যায়ক্রমিক ব্যবহারের বিষয়টি উঠে আসছে। চিকিৎসকরা দাবি করছেন কোরোনা ভাইরাসের পরিবর্তিত রূপের সাথে লড়াইয়ের জন্য এই তিনটির পর্যায়ক্রমিক ব্যবহার কার্যকর হতে পারে।

Check Also

যন্ত্রণাদায়ক কুনি নখ, জেনে নিন পাঁচ প্রতিকার

কুনি নখ খুবই যন্ত্রণাদায়ক একটি সমস্যা। হাতে বা পায়ের নখে এই সমস্যা হলে বেশ কয়েক ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *