Breaking News
Home / NEWS / আয়ুর্বেদিক ওষুধ খেয়ে ৩ দিনেই করোনা মুক্ত বাহরিনের করোনা রোগী!

আয়ুর্বেদিক ওষুধ খেয়ে ৩ দিনেই করোনা মুক্ত বাহরিনের করোনা রোগী!

মধ্য প্রাচ্যের মরুদেশ বাহরিন। সেখান থেকেই কলকাতার এক ডাক্তারবাবুর কাছ থেকে কোরোনা মুক্তির ওষুধ চাইলেন এক প্রবাসী মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার পীযূষ প্যাটেল। কোরোনা মুক্তির সেই আর্জি শুনে হোয়াটসআপেপ্রেসক্রিপশন পাঠিয়ে দিলেন শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ের জে বি রায় আয়ুর্বেদ কলেজের চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. পুলককান্তি।

হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো সেই প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ খেয়েই করোনাযুদ্ধে সপরিবার জয়ী ১৪ দিনের বিধিবদ্ধ সময়ের অনেক আগেই। দাবি প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ারের। পীযূষ প্যাটেল। বাড়ি গুজরাতের গান্ধীনগরে। বাহরিনের একটি তৈল শোধনাগারে উচ্চপদে আসীন। স্ত্রী হর্ষ প্যাটেল, দুই মেয়ে অদিতি ও মাইরা বাহরিনেই থাকেন।

গত ১৪ এপ্রিল তার কোরোনা রিপোর্ট পজিটিভ। কোরোনা ধরা পড়ার পরই বাড়ির বাকিদেরও নিয়ে যাওয়া হয়কোয়ারান্টাইন সেন্টারে। কিছুদিন পরে দুই মেয়েরও কোরোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। সরকারের বিশেষ অনুমতি নিয়ে দুই মেয়ের সাথেই থাকতে শুরু করেন না। স্বাভাবিক ভাবেই তারও রিপোর্ট পজিটিভ বেরোয় কিছু দিনের মধ্যেই। তারপরই শ্যামবাজারের ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করেন তিনি।

শ্যামবাজারের ডা. পুলককান্তি কর প্রেসক্রিপশন দেন ঠিকই কিন্তু সেখানে যে ওষুধের কথা লেখা ছিল তার ভিত্তি ছিল ভারতের প্রাচীন আয়ুর্বেদ শাস্ত্র। কিন্তু মধ্য প্রাচ্যে সেই ওষুধ জোগাড় করা এক কথায় অসম্ভব! তাহলে উপায়? ডাক্তার নিজেই বলে দিলেন সেই ওষুধ বানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং অনুপাত। তারপর যা ঘটলো তা এক কথায় মিরাকেল!

ডাক্তারের পাঠানো সেই ওষুধ খেয়ে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সপরিবারে সুস্থ হয়ে উঠলেন তিনি। অন্যান্য ওষুধের থেকে অনেক দ্রুত কোরোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরে সংক্রমন তৈরি করে ফেলে এই ওষুধ। মাত্র ১৭ এপ্রিলের মধ্যে, অর্থাৎ অবিশ্বাস্য ভাবে মাত্র তিন দিনে তার কোরোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। ২২ এপ্রিলের মধ্যে বড় মেয়ে নেগেটিভ আসে তবে আবারও পরের দিন তার রিপোর্ট পজেটিভ এসেছিল।

নিয়ম মেনে ওষুধ খাওয়ার পর তিন দিনে সুস্থ হন তিনি। স্ত্রী ও এই ওষুধের জেরেই করোনা মুক্ত হন মাত্র ৪ দিনে। তবে দেড় বছরের ছোট্ট বাচ্চা কে যেহেতু ঠিক ভাবে ওষুধ খাওয়ানো সম্ভব হয় নি তাই সে ৩০ এপ্রিল, ১২ দিনে কোরোনা মুক্ত হয়। এখন পীযুষ বাবুর সম্পূর্ণ পরিবার এই মারণ ভাইরাসের প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত।

কি কি উপাদান দিয়ে তৈরি এই ওষুধ?
পীযূষবাবু জানান ওই পাঁচন তৈরির প্রয়োজীয় উপকরণগুলো ছিল হলুদ, তুলসী, জোয়ান, দারচিনি, লবঙ্গ ও আদা। সেই দিয়ে ডাক্তারের বলা অনুপাতে পাচন তৈরি করে এক দিনে তিন থেকে চার বার খান তিনি।

তিনি আরও জানান যে এই পাচন খাওয়ার সাথে সাথে আদা ফোটানো গরম জল পান করা, চার পাঁচবার করে নুন জলের গারগেল এবং ভেপার নাওয়ার অভ্যেস করেছিলেন তিনি। তারই ফল পান হাতে নাতে। মেয়েদের ক্ষেত্রে তিনি বালচতুর্ভদৃকা এবং সুদর্শন ঘনবটি এই দুই ধ্রুপদী আয়ুর্বেদিক ওষুধ ব্যবহার করেছিলেন বলে জানান তিনি।

ভারতে এই ওষুধ প্রয়োগ চিকিৎসা সম্ভব?
হ্যা, সম্ভব। ১৪ এপ্রিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় আয়ুশ ক্বাথের বিষয় বলেছিলেন এবং সেই অনুসারে আয়ুশ মন্ত্রক গাইডলাইন মেনে কেরল, গোয়া, জম্মু-কাশ্মীর, হরিয়ানা, তামিলনাড়ু, রাজস্থান সরকার কোভিড রুগীদের এই পাচন খাওয়ায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর সুফল পাওয়া গেছে।

ভারতে কোরোনা সংক্রমন রুখতে এই আয়ুর্বেদ ওষুধই হয়ে উঠতে পারে অন্যতম হাতিয়ার, এরকমই মনে করছেন বিভিন্ন মহল। অন্যান্য চিকিৎসা ব্যবস্থার সাথে এই পন্থাকে কাজে লাগিয়েও শুরু হোক চিকিৎসা, দাবি আয়ূর্দেব বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের একাংশের।

Check Also

একেই বলে ভালোবাসা! স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়লো স্বামীর!!!

সং’যুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে বসবাসকারী ৩২ বছর ব’য়সী এক ভারতী’য় নাগরিক নিজের অ্যাপার্টমেন্টে লাগা ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *