Breaking News
Home / NEWS / করোনা কি ভারতে মহামারীর আকার নেবে, বিজ্ঞানীরা কি বলছেন

করোনা কি ভারতে মহামারীর আকার নেবে, বিজ্ঞানীরা কি বলছেন

বর্তমানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ আটকাতে সামাজিক দূরত্ব ও লকডাউনের ভূমিকা অনেক বেশি। গত মঙ্গলবার একটি বৈঠকে সামাজিক দূরত্বের ভূমিকার ব্যাপারে বোঝাতে গিয়ে একটি বিশেষ হিসেবের কথা বলেন লব আগরওয়াল, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্ম সচিব। পারস্পরিক দূরত্ব বিধি যদি না মেনে চলা হয়, তাহলে একজন কোভিড-১৯ সংক্রামিত রোগীর থেকে কতজন আক্রান্ত হতে পারেন, সেই ব্যাপারে একটি তথ্য তিনি পেশ করেন।

এই নিয়ে একটি গবেষণা করেছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)। এই গবেষণা চালানো হয়েছে মূলত ‘আর-নট’ (R Naught) বা রিপ্রোডাকশন নম্বরের উপর ভিত্তি করে। শুধু কোভিড-১৯ নয়, বিশ্বজুড়ে যতরকম সংক্রামক রোগ দেখা গেছে, সেই সব ভয়াবহ ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতাকে এই পদ্ধতিতে যাচাই করা হয়।

‘আর-নট’ নম্বর টা কি ?

‘আর-নট’ এমন একটা অঙ্কের হিসেব যার দ্বারা বোঝা সম্ভব কোনও ভাইরাস-ঘটিত রোগ মহামারীর পর্যায় যাবে কিনা। আর গেলেও কী পরিমাণে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে মানুষের মধ্যে। আর-নট এর একটা স্কেল থাকে, এই নম্বরই বিচার করে কোনও সংক্রামক ব্যাধি মহামারীর পর্যায়ে যেতে পারে কিনা বা কোনো ভাইরাসের রোগ ছড়ানোর ক্ষমতা ঠিক কতটা।

যদি সামাজিক দূরত্ব বা লকডাউন ঠিক ভাবে মেনে চলা হয়, তাহলে একজন কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তি ৩০ দিনের মধ্যে ৪০৬ জনকে সংক্রামিত করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন লব আগরওয়াল। কিন্তু যদি লকডাউনের বিধি কমপক্ষে ৭৫% মেনে চলা যায়, তাহলে একজন আক্রান্তের থেকে একমাসে মাত্র দুই থেকে আড়াইজন সংক্রামিত হতে পারে।

এবার খোলসা করে বললে, কোভিড-১৯ সংক্রমণের ‘আর-নট’ স্কেলের মান ১.৫ থেকে ৪.০ পর্যন্ত। ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাস, ২০০৯ সালে এইচ১এন১ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস ও ২০১৪ সালে ইবোলা মহামারীর সময়ও এই ‘আর-নট’ হিসেবের মাধ্যমে সংক্রমণের তীব্রতা যাচাই করা হয়েছিল। সেক্ষেত্রেও স্থির হয়েছিল একটা মাপকাঠি বা স্কেল। এই ‘আর-নট’ বা রিপ্রোডাকশন নম্বর দু’রকমের হয়।

প্রথমত, মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ যদি মহামারীর পর্যায়ে যেতে থাকে, তাহলে সেটা নির্ণয় করা যায় তার বেসিক রিপ্রোডাকশন নম্বর দিয়ে। এই হিসেব বলে দিতে পারে, যদি কোনও আক্রান্ত ব্যক্তি অবাধে সমাজিক স্তরে মেলামেশা চালিয়ে যায়, তাহলে সংক্রমণ কী পরিমাণে ছড়িয়ে পড়তে পারে সেখানে। এটা সাধারনত বত মাপের অঙ্কের জন্য ব্যাবহার করা হলে থাকে।

দ্বিতীয়ত, এফেকটিভ রিপ্রোডাকশন নম্বর, যেটা অত বড় মাপের নয়। এক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্বের বিধি মেনে চললেই বা সমাজের একটা বড় অংশের মানুষ ভ্যাকসিন বা ড্রাগের প্রভাবে সেরে উঠলে সেই সব ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির ব্যাবহার করা হয়।

ICMR এর সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, বর্তমানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যেভাবে ওয়ার্ল্ড পান্ডেমিক এর আকার নিয়েছে, সেখানে রিপ্রোডাকশন নম্বরের স্কেল যদি ২.৫ থেকে শুরু করা যায়, তাহলে একজন সংক্রামিত ব্যাক্তি সোশাল দূরত্বের বিধি না মেনে চললে ৩০ দিনে ৪০৬ জনকে আক্রান্ত করতে পারেন। অন্যদিকে যদি লকডাউন বা পারস্পরিক দূরত্ব মানা যায়, তাহলে একজন আক্রান্তের থেকে খুব বেশি আড়াই জনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে।

যদিও চিনে এই ‘আর-নট’ নম্বরের মান ৪.০ ছাড়িয়ে গেছে, জানিয়েছে ICMR। চিনে ‘আর-নট’ নম্বর বেড়ে হয়েছে ৪.০৮। অর্থাৎ স্কেলের বাইরে চলে গেছে নম্বর, মানে সংক্রমণ সেখানে বিধ্বংসী।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, এই ‘আর-নট’ নম্বর খুব চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায় হামের মতো রোগের ক্ষেত্রে। বিশেষত ভারত ও চিনের মতো বেশি জনসংখ্যার দেশে এই রোগের আর-নট নম্বর অনেক বেশি হওয়াই স্বাভাবিক। তবে এখনও সংক্রমণ কমার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না বলেই জানাচ্ছে সূত্র।

Check Also

মাধ্যমিক যোগ্যতায় চাকরি, ভারতীয় ডাকবিভাগে ৬৩৪ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি

চাকরিপ্রার্থীদের জন্য ভালো খবর। মাধ্যমিক পাশ যোগ্যতায় চাকরির বিজ্ঞ’প্ত ি প্রকাশ করল ভারতীয় ডাকঘর। ভারতীয় ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *