Breaking News
Home / INSPIRATION / ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়, নিজের খরচে মাস্ক তৈরি করে সাধারণকে দিচ্ছেন ইনি!

ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়, নিজের খরচে মাস্ক তৈরি করে সাধারণকে দিচ্ছেন ইনি!

ইচ্ছে থাকলে অনেক কিছুই করা যায়। ইচ্ছে থাকলেই অতি সংকটপূর্ণ মুহূর্তেও অন্যের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়ি দেওয়া যায়। ইচ্ছে থাকলেই যে নিজের পেশাগত দায়িত্বের মাঝেও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা পালন করা যায়। ফের মিলল তার প্রমাণ। দেশ তথা গোটাবিশ্ব জুড়ে চলা কোভিড১৯ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া নিয়ে সবাই যখন আতঙ্কে গৃহবন্দী। তখন গরিব অসহায় মানুষকে রক্ষা করতে নিজের খরচে মাস্ক তৈরি করে তা বিলি করে চলেছেন রিক্তা দেবী।

নিজেই বাড়িতে মাস্ক বানিয়ে তা গ্রামে গঞ্জে গিয়ে অসহায়দের হাতে বিনামূল্যে তুলে দিচ্ছেন। শুধু মাস্ক বিলিই নয়, নোভেল করোনা’র ছোঁয়া থেকে বাঁচতে কি কি করণীয়। স্যানিটাইজার ও সাবান ব্যবহারের নিয়ম এমনকি এলাকার কেউ ভিন দেশ বা ভিন রাজ্য থেকে এলে সংস্পর্শে না গিয়ে তাঁর সম্পর্কে প্রশাসনকে জানানোর ব্যাপারেও সচেতন করে চলেছেন তিনি। রিক্তা দাসের বাড়ি এরাজ্যেরই গঙ্গারামপুর থানার দমদমা এলাকায়। পেশায় তিনি স্বাস্থ্য দফতরের সামান্য আশাকর্মী। জামাকাপড় সেলাইয়ের কাজও তিনি করেন।

করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ও মানুষকে বাঁচাতে এই মুহূর্তে হাসপাতালে চিকিৎসক নার্সদের পাশাপাশি গ্রামেগঞ্জে সব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন আশাকর্মীরা। রিক্তা দেবী পেশার দায়িত্ব পালনে প্রতিদিন এলাকায় ঘুরে ঘুরে সকলকে সচেতন করতে গিয়ে লক্ষ্য করেন যে একশ্রেণীর মানুষের মাস্ক ব্যবহার তো দূর। বাজারে মাস্কের কালোবাজারের কারণে তা কেনার মতো পয়সাও তাঁদের নেই। এর পরেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, অসহায় গরিব মানুষদের বিনামূল্যে বিজ্ঞানভিত্তিক মাস্ক বানিয়ে যোগান দিবেন তিনি।

যেমন ভাবনা তেমন কাজ। এরপরেই বাজার থেকে কাপড় কিনে এনে মেয়ে বিনিতাকে সাথে নিয়ে আশাকর্মীর কাজের শেষে সকাল সন্ধ্যা ও রাতে নিজেরাই সেলাই মেশিন চালিয়ে তৈরি করছেন মাস্ক। আশাকর্মীর দায়িত্ব পালনে গ্রামে গিয়ে তা গরিব অসহায় কাউকে দেখলেই তাদের মাস্ক দান করছেন তিনি।

রিক্তা দেবী ও তাঁর মেয়ে বিনীতা জানিয়েছেন, তাঁদের একটাই উদ্দেশ্য করোনার সংক্রমণ সকলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া রোধ করা ও গরিব অসহায়রাও যেন মারণ এই ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকতে পারেন। এব্যাপারে জেলার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুকুমার দে জানিয়েছেন, মারণ এই ভাইরাসের সংক্রমন প্রতিরোধের লড়াইয়ে ডাক্তার নার্সদের পাশাপাশি গ্রামের আশাকর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

একজন আশাকর্মী হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানুষকে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করে রিক্তা দেবী নজির সৃষ্টি করেছেন। কারণ, এই মুহূর্তে বাজারে মাস্কের যথেষ্ঠ আকাল রয়েছে। যার জন্য প্রশাসনের পক্ষে সকলকে মাস্ক দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলেও মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক স্বীকার করেছেন।

Check Also

বিবাহবার্ষিকীতে স্বামীকে কিডনি উপহার দিলেন স্ত্রী

একেই বলে হয়তো ভালোবাসার উপহার ৷ ফুলের তোড়া নয়, নয় ক্যান্ডেল লাইটল ডিনার ৷ দামি ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *