Breaking News
Home / INSPIRATION / খালি পায়ে স্কুল যাওয়া চাষীর ছেলেই ISRO-র চেয়ারম্যান!

খালি পায়ে স্কুল যাওয়া চাষীর ছেলেই ISRO-র চেয়ারম্যান!

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের অন্যতম প্রধান হিসাবে তাঁর পরিচিতি বিশ্বজুড়ে। যাঁর হাত ধরেই ইসরো একের পর এক সাফল্য তুলেছে নিজের ঝুলিতে। সেই ডঃ কে শিবন অত্যন্ত দারিদ্রতার সাথে মানুষ হয়ে নিজের কঠোর পরিশ্রম এবং অদম্য জেদের জেরে আজ এই জায়গায়। ড. কে শিবনের জীবন, জীবনযু’দ্ধের গল্প শুনলে মনে হবে এটা কি সত্যি না কোনও ছবির চিত্রনাট্য!

কলেজে পড়ার আগে পর্যন্ত কখনও পায়ে জুতো পরতে পারেননি ড. কে শিবন। স্কুলে যেতেন খালি পায়েই! কারণ? সামর্থ ছিল না জুতো কেনার। আর তিনিই এখন ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ইসরো) বর্তমান চেয়ারম্যান।

আর্থিক অনটন এতটাই ছিল যে কলেজের গন্ডি পেরিয়ে পড়তে পারেননি পছন্দের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে। কৃষক পরিবারের ছেলে শিবন পড়াশোনার শেষে প্রতিদিন বাবার সঙ্গে হাত লাগাতেন চাষের কাজে। বাবাকে সাহায্য করতে হবে বলে বাড়ির কাছের স্কুল-কলেজেই পড়াশোনা করেছেন।ড. কে শিবনের পড়াশোনা শুরু সরকারি তামিল ভাষার স্কুলে।

বাবা গ্রীষ্মকালে আমের চাষ করতেন। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে বাবার সঙ্গে আম বাগানে গাছেদের পরিচর্যার কাজ করতেন শিবন। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে যাওয়ার আগে পর্যন্ত প্যান্ট কিনে দেওয়ার পয়সা ছিল না বাবার। তাই ধুতিই পরতেন শিবন। আর সেই ডঃ শিবনের হাত ধরেই চাঁদের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে ভারত।

শিবন বলেন ‘(জীবনে) কী পেলাম তা নিয়ে কখনো মাথা ঘামাইনি। বরং আগামী দিনে কী পেতে পারি? সব সময় এই চিন্তাই তাড়িয়ে বেড়াত। তাই স্কুলে পড়ার পাশাপাশি বাবার সঙ্গে খেতে চাষ কাজ করতে কোনো দিন লজ্জা লাগেনি। বিরক্তও হইনি।’ ‘কৃষিকাজের পাশাপাশি সংসার চালাতে বাবা ফলের দোকান দিয়েছিলেন। যখন আমের মৌসুম আসত, আমি বাবার সঙ্গে বসে আম বিক্রি করতাম।

এতে টাকা খরচ করে বাবাকে আর অতিরিক্ত লোক রাখা লাগত না।’ ‘প্রথম জুতা পায়ে দিই কলেজে ভর্তি হওয়ার পর। এর আগে খালি পায়েই স্কুলে ও বাবার দোকানে যাতায়াত করতাম। জুতার পাশাপাশি স্কুল-কলেজে পরে যাওয়ার মতো প্যান্টেরও অভাব ছিল। তাই বেশির ভাগ সময় ধুতি পরে যেতাম।’

১৯৫৭ সালের ১৪ই এপ্রিল তামিলনাড়ুর মেলা সারাক্কালভিলাই গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলায় তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারীর একটি সরকারি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। ১৯৮০ সালে মাদ্রাজ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে স্নাতক হয়েছিলেন। পরিবারে তিনিই প্রথম স্নাতক। যদিও স্কুল পাস করার পরে তার ইচ্ছা ছিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়া।

কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে তাঁর বাবার স্নাতক হতে বলেন। বাবার ইচ্ছা বদলাতে টানা এক সপ্তাহ উপবাসও করেছিলেন তিনি, কিন্তু লাভ হয়নি। অবশেষে তাঁকেই বদলাতে হয় নিজের সিদ্ধান্ত। তারপর গণিত নিয়ে স্নাতক হলেও ছেলের ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ার ইচ্ছা কতটা তা উপলব্ধি করেন ডঃ শিবনের বাবা। স্নাতক হওয়ার পর জমি বিক্রি করে তাঁর বাবা তাঁকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি করেন।

শিবনের কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়েও দেখা দেয় অজস্র বাধা। যেখানে অন্যান্য ছাত্ররা নিজের পছন্দের কলেজে ভর্তি হয় সেখানে তাঁর ক্ষেত্রে ছিল উল্টো। তাঁর বাবা বেছে বেছে তাঁকে ভর্তি করেছিলেন বাড়ীর নিকটবর্তী কলেজে। যাতে করে কলেজের ছুটির সময় চাষাবাদের কাজে হাত লাগাতে পারে শিবন।

এরপরই একের পর এক সাফল্য, ১৯৮২ সালে বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স থেকে এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে তিনি পড়াশোনা শেষ করেন। তারপর ইসরোর পিএসএলভি তৈরির প্রজেক্টে যুক্ত হন ১৯৮২ সাল থেকে। ২০১৪ সালে ইসরোর লিকুইড প্রপালশন সিস্টেম সেন্টারের চেয়ারম্যান হন তিনি। ইসরোর চেয়ারম্যান হন ২০১৮ সালে।

কথায় আছে, কষ্ট করলে কেষ্ট মেলে। ডঃ কে শিবনের জীবনের ক্ষেত্রে যা অক্ষরে অক্ষরে প্রতিফলিত। পড়াশোনার ফাঁকে বাবার সাথে চাষের কাজে, আম বাগানের কাজেও হাত লাগিয়েছেন তিনি। সর্বভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর জীবন সংগ্রামের এই সকল কথা তিনি তুলে ধরেছেন। এমনকি তিনি মজার ছলে এও জানিয়েছেন, ছাত্রাবস্থায় তাঁর জীবন কেটেছে সাদামাটা। এমনকি কলেজে ওঠার আগে পর্যন্ত জুতো পরেন নি। প্যান্টও ছিলনা। ধুতি পরে সময়কাল কাটিয়েছে।

আর এই ডঃ কে শিবন সীমিত বাজেটে দিনের পর দিন এগিয়ে নিয়ে চলেছেন ভারতের মহাকাশ গবেষণাকে। ইসরোর অগ্রগতিতে ডঃ কে শিবনকে কুর্নিশ করছে গোটা দেশ।

Check Also

বিবাহবার্ষিকীতে স্বামীকে কিডনি উপহার দিলেন স্ত্রী

একেই বলে হয়তো ভালোবাসার উপহার ৷ ফুলের তোড়া নয়, নয় ক্যান্ডেল লাইটল ডিনার ৷ দামি ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *